পর্ন দেখা যে খারাপ তা পাড় পর্ন আসক্তও স্বীকার করে

পর্ন দেখা যে খারাপ তা পাড় পর্ন আসক্তও স্বীকার করে। সেজন্য সেও সেটা দেখে লুকিয়ে লুকিয়ে, পরিবারের দশজনকে সামনে বসিয়ে দেখে না। আর মা-বোনেরা, ক্ষেত্রবিশেষে বাবারাও জি বাংলায় যে উলুধ্বনি শোনেন আর মূর্তিপূজা দেখেন, সেটা হয় টিভিরুমে পায়ের ওপর পা তুলে রসিয়ে রসিয়ে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে যেন আল্লাহ্‌র সাথে ব্লাসফেমি উপভোগ করা হয়।

পর্নমুভিতে যা পাপ করা হয় তার চেয়ে শির্ক যে বেশি ভয়াবহ তা কি আমরা বুঝি? মা-বোনদের এটা বুঝিয়ে বলি?

মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের সাথে হোটেলে রাত কাটিয়েছে জানতে পারলে রাগ করে সেই মেয়েকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলবে, এমন বাবার সংখ্যা সমাজে নেহাত কম নেই। তাদের অনেকেই হয়তো দাড়িওয়ালা; মাসজিদের সামনের কাতারে সালাত আদায় করেন। এই বাবাই হয়তো ব্যাঙ্কের সুদ খাচ্ছে। একটাকা সুদ খাওয়া ছত্রিশবার জেনার চাইতে বেশি পাপ। বাপ কি বোঝে সে মেয়ের চেয়ে কত বড় অপরাধী?

শয়তান আমাদের পাপের অনুভূতি ভোঁতা করে দেয় এভাবেই। কোনটা বড় পাপ, এসব ভুলিয়ে রাখে। সুদের সর্বনিম্নস্তরের পাপ মায়ের সাথে জেনার তুল্য। আর শির্কের উল্লেখে আল্লাহ্‌ বলেছেন যেন আকাশ ফেটে পড়তে চায়, জমিন বিদীর্ণ হয়ে যেতে চায়, পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে চায়।

মূর্তিপূজা উপভোগকারী আর ব্যাঙ্কের সুদ নেওয়া মা-বাবারা সন্তানকে কী নৈতিকতা শেখাবেন? সমাজের অধঃপতনে আক্ষেপ করার আগে মা-বাবারা যেন এগুলো ভাবেন।

Collected From
Brother
Jubaer Hossain

Anal sex or sodomy : আপনার ছেলে সন্তানটির নিরাপত্তা

গতকাল ফরেনসিক মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট এ গিয়ে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম । কফিল স্যারের অধীনে আসা একটি কেস দেখে মনে হলো সবার সচেতনতার জন্য শেয়ার করা উচিত্‍ তাই শেয়ার করলাম ।

দিনাজপুরের একটি ঘটনা । মনির নামের একটি ছেলে পার্শ্ববর্তী একজন প্রভাবশালী লোকের দ্বারা বিকৃত যৌনতার শিকার হয় । মনিরের চিত্‍কার চেঁচামেচীতে পাশের মাঠে খেলাধুলারত কিছু ছেলে তাকে উদ্ধার করে । দিনাজপুর মেডিকেলের ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট কোন SODOMY হয় নাই বলে রিপোর্ট করে রিপোর্ট সন্দেহজনক হওয়ার তাকে রংপুর মেডিকেলে রেফার্ড করা হয় । কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় রংপুরে আসতে ৫ দিন দেরী হয় । তাই তার ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন করে শিওর কোন সাইন সিমটম পাওয়া না গেলেও ANAL CANAL এর চারিদিকে এব্রাশন দেখে কিছুদিন আগে যে বিকৃত যৌনতার শিকার হয়েছিল বুঝা যায় ।

পরীক্ষা শেষে ভাবলাম মনিরের সাথে কথা বলব । তাই তাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে দেখলাম সে আমাকে ভয় করছে এমনকি আমাকে দেখে ভয়ে কাঁপছে । বুঝলাম সে ফোবিয়াতে ভুগছে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারতেছে না ।

তারপর স্যার যা বললেন তা ভয়ানক ব্যাপার । আমাদের বাড়িতে অনেক সময় আত্মীয় স্বজন বেড়াতে আসলে তাকে সাধারনত ছোট ছেলের বা ভাইয়ের রূমে থাকতে দেই । মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অনেক চিন্তিত হলেও ছেলেদের নিয়ে আমরা কোন চিন্তা করিনা । কিন্তু আমাদের বুঝা উচিত্‍ সমাজ দ্রুত চেন্জ হয়ে যাচ্ছে মানুষ এখন রেডিওতে খবর গান শোনেনা অনেকই ইন্টার্নেট এ ছোট ছেলে বা মেয়েদের সাথে যুবা পুরুষদের পর্ণো দেখে অভ্যস্থ তাই আপনার ছোট ছেলে বা মেয়েটির সাথে থাকা আপনার বন্ধু বা আত্মীয়ের মনে পশুত্ব জেগে ওঠা খুব স্বাভাবিক । যদিও মেনে নিতে কষ্ট হয় তবুও এটা আপনাকে মেনে নিতেই হবে কারণ এধরণের অনেক ঘটনাই আমাদের পেডিয়াট্রিক ডাক্তারদের কাছে আসে ।

এই যে এত কম বয়সে আপনার ছেলে বা ভাই পূথিবীর একটি নিষ্ঠুর রূপের মুখোমুখি হলো এর ফল হবে খুবই মারাত্মক । সব মানুষকেই সে ভয় করতে শুরু করবে মনে করবে সবাই নিষ্ঠুর তারপর আপনার চোখের সামনেই সে হারিয়ে যেতে থাকবে ধীরে ধীরে । কখনোও যদি OVERCOME করতে পারে তবে সে হয়ে উঠতে পারে হিংস্র বখাটে একটি ছেলে এমনকি কাউকেই খুন করতে দ্বিধা করবে না আপনার সেই আদরের ছোট ভাই বা ছেলেটি ।

তাই সময় এসেছে সচেতন হওয়ার আপনার মেয়েটিকে নিয়ে যতটা ভাবেন ঠিক ততটাই ভাবুন আপনার পরিবারকে মাতিয়ে রাখা ছোট ছেলেটির নিরাপত্তা সম্পর্কে

Written by
Dr Mobashwer Ahmed Noman

ধাক্কা

আমরা প্র্যাক্টিকাল লাইফে 'ধাক্কা' জিনিসটাকে খুব ভালোভাবে নিতে পারি না। যে কোন লক্ষ্যে পৌঁছাতে গিয়ে যখন পদে পদে ধাক্কা খেতে হয়, তখন হতাশা আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে ধাক্কার বল এতই প্রবল হয়, যে তা লক্ষ্য থেকে সরিয়ে বহু দূরে গিয়ে নিক্ষেপ করে আমাদের।

তবে এই ধাক্কার মাঝেও রয়েছে কল্যাণ। অনেক দ্বীনী ভাই দেখেছি, যারা জীবনে নানা ক্ষেত্রে প্রকান্ড একটা শক খেয়ে জীবনকে চিনেছেন। বুঝেছেন জীবনের সত্যিকারের অর্থ। চিনেছেন তার রব্ব কে।

ক্রিকেটার আশরাফুল ম্যাচ গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে পড়ে গোটা জাতির সামনে কেঁদেছিলেন। এখন গ্ল্যামারাস খেলা থেকে বহু দূরে তিনি। শুনেছি নামায কালাম পড়ছেন। দাড়ি রেখেছেন।

একসময়কার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ। আইসিএলে গিয়ে ক্যারিয়ারের ১২ টা বাজিয়ে এখন নিতান্তই একজন ফ্যামিলি ম্যান। প্রায়ই দেখা হয় পাড়ার মাসজিদে। বেশ কিছুদিন নিয়মিত মাসজিদে আসছেন। মুখে ঘন দাড়ির আস্তরণ দেখে জিজ্ঞেস করলাম, "রেখে দিবেন নাকি?", সন্তুষ্টির হাসি মুখে ঝুলিয়ে জবাব দিলেন "ইনশাআল্লাহ"।

কিছু কিছু ধাক্কা, আল্লাহর নিয়ামত সহ আসে। আমরা অনুধাবন করি তো?

--- Nazmus Sakib

আমরা সবাই আসলে অকৃতজ্ঞ

১) মেয়েটি তার ওয়্যারড্রোব খুলল; দুই ডজনের অধিক পোশাক লাল, হলুদ, কমলা, পিঙ্কসহ আরো হরেক রং সেখানে ঝুলছে। দ্রুত এক নজর দেখে নিয়ে সপাটে দরজা লাগিয়ে দিল।

"মা আমার পার্টিতে পরার মত কিছুই নেই, কতদিন ধরে বলছি শপিংয়ে চল, তুমি তো আমার কথা শোনই না, এখন আমি কি পরে যাব?"

২) ছেলেটি চতুর্থ বারের মত ফ্রিজে কিছু খুঁজছিল; পিৎজা, চকলেট, আইসক্রিম, ফল-মুল আর জুস থরে থরে সাজানো রয়েছে। সে হতাশ হয়ে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করল আর রান্নাঘর ছাড়তে ছাড়তে বলছিল, " এখানে খাওয়ার মত তেমন কিছুই নাই, চল কোন ক্যাফেতে যাই আর ভাল-মন্দ কিছু খাই।"

৩) সে নিত্যদিনের মত বিষণ্ণতা আর ভয় নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠল; যা প্রতিদিন সকালের রোজনামচা। সুইসাইডের প্রবণতা তার মাথায় আবার চড়তে শুরু করেছে। তার বিয়ে হয়েছে এক সুদর্শন পুরুষের সাথে, রয়েছে দুটো ফুটফুটে বাচ্চা, বাড়ি আর গাড়ি; একজন নারী যার স্বপ্ন বুনে তার সবি। আপাতদৃষ্টিতে, জীবন খুবই পারফেক্ট মনে হলেও কিসের যেন শুন্যতা। কেন জানি সে তার স্বপ্নের পুরুষের সন্ধান পায় নি।

৪) সতের বছরের টিনএজার ছেলেটির আই-ফোন, কোর আই-৭ ডেল, ১০০০ ডলার পকেটমানি পাওয়া সত্ত্বেও তার মতে জীবন খুবি ম্যাড়ম্যাড়ে। সে কিছুতেই টেক্সটে মনোযোগ দিতে পারছে না। সে বই নিক্ষেপ করার মত করে বন্ধ করল আর ভাবছে, "আমার বন্ধুর জাগুয়ার (গাড়ির ব্রান্ড) থাকতে পারলে, আমার কেন থাকবে না?"

এই দৃশ্যপটগুলো কি পরিচিত ঠেকছে?

অকৃতজ্ঞতাবোধের স্বভাব। আমাদের বেড়ে উঠার প্রক্রিয়ায় উথপ্রোতভাবে যেন জড়িয়ে আছে অকৃতজ্ঞতা আর আল্লাহ্‌র অসংখ্য নিয়ামতের প্রতি অন্ধত্ব! আমরা আমাদের সর্বশক্তি ব্যয় করি আমাদের জীবনে কি নেই তারই সালতামামিতে। এটা খুবই বিদ্রূপাত্মক, এই হাপিত্যেশ আমাদের কেবলি কষ্ট বাড়ায়।

এই সকল নেতিবাচক চিন্তা আমাদের হতাশার কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত করে। তাই আমাদের উচিত আমাদের চিন্তা-চেতনাকে সতর্কতা আর সজ্ঞানের সহিত দিকনির্দেশনা দেয়া।

ইতিবাচক চিন্তাকে এর সমাধান হিসেবে আধুনিক মনস্তত্ত্ববিদরা সাম্প্রতিককালে প্রাকৃতিক নিয়ম হিসেবে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হলেও কুরআন এই সমস্যার স্বরূপ আর সমাধান দিয়েছে ১৪০০ বছর আগেই:

"এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।" [সুরা ত্ব-হাঃ ১২৪]

"যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।" [সুরা ইব্রাহীম: ০৭]

Collected From
Brother
Sayyid Mahmud Gaznabi

আধুনিকতা ও নষ্টামো কি একই জিনিস? এই লেখাটি না পড়লে মিস করবেন

মুরুব্বীদেরকে বলতে শুনেছি যত দিন যাবে তত মানুষজন থেকে লজ্জা কমে যাবে।
.

আমি বিষয়টাকে একটু অন্যভাবে দেখি।

আমার মতে, আমরা জাতিগতভাবে যে দুইশ' বছর ওয়েষ্টের গোলাম/দাস ছিলাম, সে দুইশ বছরে আমাদের জাতীয় রক্তে-চিন্তায়-ব্রেনে-শরীরের প্রতিটা সেলের ডিএনএ'র ভিতর দুইশ' বছর আমাদেরকে যারা শাসন করেছে সেই সাহেবদের মত হওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ভীষন শক্তভাবে ঢুকে গেছে।
.

আমরা তাই 'স্বাধীন' হয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের মন-মানসিকতা-চিন্তা-ভাবনা এখনো কলোনাইজড।
.

তারই ফসল, সাহেবদের নির্লজ্জ্বতার সাথে প্রতিযোগীতা দিয়ে ডেকচির চে' ঢাকনা গরমের মত সাহেবদেরকে টেক্কা দিয়ে তাদের চে'ও বেশী নির্লজ্জ্ব হওয়ার চেষ্টা!
.

আমাদের কাছে তাই 'মডার্ণ' হওয়ার সংজ্ঞা হলো ওয়েষ্টের কালচার/ড্রেসাপ কে adopt করে নেয়া।
.

উদাহরণ- যখন কোনো মেয়ে খোলা-মেলা কাপড় পড়ে, তখন আমরা বলিনা 'মেয়েটা বেহায়া হয়ে গেছে', উলটা বলি 'বেশী মডার্ণ হয়ে গেছে'!

যখন কেউ ফেইসবুকে নিজেদের অন্তরংগ ছবি দিচ্ছে, আমরা বলিনা 'এ বেয়াদব হয়ে গেছে', উলটা বলি 'আজকালকার ছেলেমেয়েরা বেশী ফাষ্ট হয়ে গেছে'!
.

ফাষ্ট হওয়া, মডার্ণ হওয়া, আধুনিক হওয়ার সংজ্ঞা আমাদের কাছে 'ওয়েষ্টের মত হওয়া'!

(দুঃখজনক হলো, ওয়েষ্টের ভাল জিনিষ না নিয়ে আমরা তাদের খারাপগুলোই নেই আর সেই খারাপ দিকগুলোকেই মডার্ণ/আধুনিক বলি!)
.

ওয়েষ্টের কালচারে লজ্জা-শরমের জায়গা বলতে গেলে নেইই।

মা-বাবা'র সামনেই ছেলে তার গার্লফ্রেন্ডকে চুমু খাচ্ছে, বা মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডের কোলে উঠে যাচ্ছে, কেউ কেয়ার করেনা।
.

দুঃখ লাগে যখন ওয়েষ্টকে ফলো করতে করতে তথাকথিত 'মডার্ণ' হতে গিয়ে আমাদের সমাজের মানুষজনকেও দেখি prototyped আচড়ণ করতে।

আর তাই করতে গিয়ে, ডেকচির চেয়ে ঢাকনা গরমের মত, ওয়েষ্টেও মানুষজনও যা করেনা, এখানে তারা তাও করতে ছাড়েনা!
.

মা-বাবা'র সামনেই নিজের জামাই বা বউ'র সাথে গা ঘেষাঘেষি করে বসে থাকা।
মুরুব্বীদের সামনেই একজন আরেকজনকে জড়ায়ে ধরে ছবি তোলা।
এসব দেখলাম একদম কমন বিষয়!
.

এবার বাংলাদেশে একটা ঘটনা চোখের সামনে দেখে একদম stunned হয়ে গিয়েছিলাম।
ঢাকার বসুন্ধরা মার্কেটে একটা ছেলে একটা মেয়ে মারামারি করছে!
ছেলেটা মেয়েটার হাত মুচড়ে ধরেছে, মেয়েটা বাকী খোলা হাতটা দিয়ে ঠাস করে ছেলেটাকে ভীষন একটা চড় লাগিয়ে দিলো!

আমি হতভম্ব।

জীবনে এরকম প্রকাশ্যে ছেলে-মেয়ের মারামারি দেখিনি, তাড়াতাড়ি থামাতে যাবো ভাবছি, তখন শুনলাম, মেয়েটা বলছে, তোর প্রেমের থোড়াই কেয়ার করি! ছাড় শালা!

আর ছেলেটাও সাথে সাথে চড়া গলায় বললো, তোকে যদি আর কোনোদিন অমুকের সাথে দেখছি, একদম হাত ভেংগে দিবো।

আমি হতভম্ব হয়ে এক্সসেলেটরের নীচে দাঁড়িয়ে আছি।
পিছন থেকে একজন বললেন 'আপু, রাস্তা ছাড়েন। এসব নাটক সস্তা হয়ে গেছে। দেখার কিছু নেই'!

আমি অবাক হয়ে বললাম, তাই বলে ছেলেটা মেয়েটার এভাবে হাত মুচড়ে দেবে?

নির্লিপ্ত কমেন্ট শুনলাম, মেয়েটাও তো ছেলেটাকে চড় মেরেছে!

ভাবলাম, আরে, তাইতো!

এক্সসেলেটর দিয়ে উঠে এসেও কৌতুহলে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলাম, দেখি এরা কী করে।

ওম্মা, একটু পরেই দেখি আরেক জোড়া ছেলে মেয়ে আসলো।
চারজন মিলে কিছুক্ষন চরম হাউকাউ করলো।

দূর থেকে কথা বুঝতে পারছিলাম না।

মিনিট খানেক পরেই আমাকে অবাক করে দিয়ে চারজন একসাথে এক টেবিলে খেতে বসলো, যেন একটু আগে কিছুই হয়নি!!

পরে কাছের মানুষদের কাছ থেকে জানলাম, এখন এমন মারামারি করাটাই প্রেম!! যারা মারামারি করেনা, তারা আবার কীসের প্রেম করে?

প্রেম এখন ঝাল-মিষ্টি-টক-টক!
.

অবাক হয়ে ভাবছিলাম, ডেকচির চেয়ে আসলেই দেখি ঢাকনা গরম!

অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশ্যে এমন মারামারি করলে আশেপাশের মানুষজন সোজা পুলিশকে ফোন করে দিবে, বলবে একজন আরেকজনকে এবিউজ করছে!
.

ডেকচির চেয়ে ঢাকনা গরমের আরেক নমুনা ইদানিং দেখছি ফেইসবুকে।

নিজেদের অন্তরংগ ছবি আপলোডানো তো আছেই, এসব ছবি, স্ট্যাটাস রোমান্টিকতার সীমানা পেরিয়ে যে vulgar হয়ে যাচ্ছে, অশ্লীল দেখাচ্ছে, তার কারো কোনো হুঁশ নেই।
.

মানুষজনের প্রেম আর ভালবাসা হয়ে গেছে এখন দেখানোর প্রতিযোগীতা।
কে কত দেখাতে পারে!
.

নতুন আরেকটা যে জিনিষটা এবার দেখলাম, তা হলো, একজন আরেকজনকে সবার সামনেই, এমনকি মুরুব্বেদের সামনেও, বে-ই-ই-বী, বাবুসোনা, গুড্ডু সোনা এসব ডাকা!
.

এক পরিচিত মেয়ে অনেকের সামনেই, যেখানে আমিও ছিলাম, তার বয়ফ্রেন্ডকে যখন বাবুসোনা বলছিলো, মেজাজ আর সামলাতে পারলাম না।
বললাম, 'তুমি কি জানো, গ্রাম-গঞ্জে সোনা কাকে বলে?'
মেয়েটা চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো 'কাকে?'
বললাম, ছোট মেয়েদের শরীরের প্রাইভেট পার্টকে গ্রামে আদর করে বাবা-মা বা মুরুব্বীরা সোনা বলে। তোমার বয়ফ্রেন্ড কী তোমার শরীরের প্রাইভেট পার্ট?

এরপর ওখানে কী হয়েছিলো তা আর নাইই বলি।
.

ক'দিন দেশে থেকে যা বুঝেছি, তা হলো, মানুষজনের এ ধরনের ব্যবহার, আচার-আচড়ন মূলতঃ দু'টো কারণের ফসল।
.

এক- কলোনাইজড মন মানসিকতা- যা থেকে এসেছে ওয়েষ্টের লোকজনের চেয়েও বেশী ওয়েষ্টার্ণ হওয়ার চেষ্টা!

আর দুঃখজনক হলো, নতুন জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা তাদের আগের জেনারেশনের চেয়ে আরো বেশী কলোনাইজড।

আগের জেনারেশনে তাও কিছুটা হলেও একটা নিজস্ব সেন্স ছিলো, নিজস্ব বোধ ছিলো।

এখনকার ছেলে-মেয়েদেরকে তিনটা 'S' দিয়ে ডিফাইন করা যায়।
Show off
Shallow
Sense-less

এরা না বাংলাদেশী, না বিদেশী! জীবনে বিদেশে না গিয়েও এরা বিদেশীদের চেয়ে দশগুন বেশী বিদেশী!
.

দুই- অজ্ঞতা।

আধুনিকতা কাকে বলে এটাই তেমন কেউ জানেনা!

আধুনিকতার সাথে modesty'র যে অন্তরংগ সম্পর্ক- তার কোনো আইডিয়াই নাই বাংলাদেশীদের সো-কল্ড 'আধুনিকতা'য়।

এরা আধুনিকতা মানেই মনে করে বলিউড আর হলিউডের মুভিতে যা দেখে তা।

অথচ এদের কোনো ধারণাই নাই যে এমনকি খোদ এমেরিকার মেইনস্ট্রীম সোসাইটির সাথে হলিউডে যা দেখায় তার সাথে তেমন কোনো মিলই নেই।
.

একেকটা কালচারের একেক রকম দিক থাকে যেগুলো সে কালচারের সৌন্দর্য্যের মত, সেগুলো তার নিজস্ব unique বৈশিষ্ট।

মানুষ হোক বা কালচার, কেউ যখন নিজস্বতা ছেড়ে দিয়ে হুবুহু অন্যের মত হয়ে যেতে চেষ্টা করে তখন বার বার কেনো যে কাকের ময়ূর-পুচ্ছ লাগিয়ে ময়ূর হতে চেষ্টা করার গল্পের কথা মনে পড়ে যায়!
.

আপনি যখন লজ্জা-শরমকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের সামনে আপনার জামাই বা বউ'র সাথে লাগালাগি করছেন,
গা ঘেষাঘেষি করছেন,
জড়ায়ে ধরে খুব রোমান্টিকলি ছবি তোলে ফেইসবুকে দিচ্ছেন,
জ্বী না, আপনি মডার্ণ হননি,
আপনি যা হয়েছেন তার নাম বেহায়া হওয়া।
তার নাম বেলাজ হওয়া।
তার নাম কাকের ময়ূর হতে চেষ্টা করা।
.

কখনো কী ভেবে দেখেছেন, আপনার আমার সবার শরীর একইরকম হওয়ার পরও আমরা কাপড় পড়ি কেনো?
সব মেয়ের শরীরই তো একই, আবার সব ছেলের শরীরইতো একই, তারপরও কেনো আমরা শরীর ঢেকে রাখি?

কারন,
কিছু জিনিষ ঢেকে রাখাতেই সৌন্দর্য্য।
কিছু কিছু ব্যবহার/আচার-আচড়নও তেমন প্রাইভেট রাখাতেই সৌন্দর্য্য।
.

কাকের মত পুচ্ছ-লাগানো কুৎসিত ময়ূর হতে চেষ্টা না করে নিজে একজন আসল ময়ূর হন।

তখন এত কষ্ট করে ফেইসবুকে ছবির পর ছবি দিয়ে, স্ট্যাটাসের পর স্ট্যাটাস দিয়ে আপনাকে বলতে হবেনা দেখো দেখো আমি কত সুন্দর! দেখো দেখো আমরা কত রোমান্টিক!
.

এন্ড বাই দ্য ওয়ে, মানুষ আপনাকে সুন্দর বললো কিনা, মানুষের কাছে আপনি রোমান্টিক কিনা তা প্রমাণ করে কী লাভ শুনি?

যে পরিমাণ effort আপনারা নিজেদেরকে অন্য মানুষের কাছে সুন্দর প্রমাণ করতে, রোমান্টিক প্রমান করতে ব্যয় করেন, তার সিকিভাগও যদি আপনি আর আপনার পার্টনার একজন আরেকজনকে প্রমান করতে ব্যয় করতেন, আপনাদের চে' সুখী আর কেউ হতো না!- এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি

[Collected from sister Farjana, শিরোনাম সম্পাদক কর্তৃক প্রদত্ত]

আমার এক বন্ধুর সংসার ভাংতে চলেছে

আমার এক বন্ধুর সংসার ভাংতে চলেছে ।

... প্রায় দুই বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর মাস ছয়েক আগে যখন তারা দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করলো আমরা বেশ এনজয় করেছিলাম । বন্ধুটি ACCA করে বেশ ভালো বেতনেই একটা কর্পোরেট জব করছে । মেয়েটি গ্রাজুয়েশনের শেষ পর্যায়ে ।

দুই পরিবারের আর্থিক-সামাজিক অবস্থান, তাদের উপার্জন মিলিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দে কেটে যাবার কথা । বিয়ের কয়েক মাস পর্যন্ত বেশ আমোদেই কেটেছে ..... কিন্তু ইদানিং নাকি সম্পর্কটা সুতোর উপর ঝুলছে ।

কারণ .......... মেয়েটি 'এ্যাডজাস্ট' করতে পারছেনা !!!!!!!

বন্ধুটি বেশ আক্ষেপ করে বলছিল, 'কোনদিন এই দিনটার কথা কল্পনাও করিনি । প্রেম করার দিনগুলোতে মনে হতো সারাজীবন একে অপরকে সহ্য করবার মত ভালোবাসাটুকু দু'জনার আছে । কিন্তু ... আজ মনে হচ্ছে আসলেই ''প্রেমের বিয়ে বেশিদিন টেকেনা" ..

....'প্রেম'টা যতই গাঢ় হোক না কেন , তাতে একটা ফাঁক সবসময়ই থাকে । সেটা 'দেখনদারী' দিয়ে ঢেকে রাখা হয় । কৃত্রিমতা দিয়ে 'বাস্তবতা' আড়াল করার চেষ্টা ।

মেয়েটা কড়া মেকাপে সদ্য গজিয়ে ওঠা ব্রণগুলো ঢাকে । স্কিনের কালার উজ্জ্বল করে । বেছে বেছে সবচেয়ে ভালো জামাটা গায়ে দিয়ে ডেটিং এ যায় । খাবারে বাছ-বিছার করে... গুছিয়ে কথা বলা.. আসল 'আমি'কে গোপন করে আরেকটা ''আমি''র খোলস !!!

বিয়ের পর খোলস ছাড়া সেই মেয়েটাকে দেখে ছেলেটার মনে 'দ্বিধা' তৈরী হওয়াটা অমূলক নয় ।

বিয়ের আগে ছেলেটি মেয়েটির জন্য দামী গিফট কেনে । দামী রেষ্টুরেন্টের 'দামী বিল'' বেয়ার করে । হাঁটাদুরত্বেও সিএনজি/রিকশা লাগে । রাত জেগে ক্লান্তিহীন ফোনালাপ ... টেক কেয়ার করার পাগলামি ... একনজর দেখার অপেক্ষা .... 'পাগল প্রেমিক' বাস্তবতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যায় ।

বিয়ের পর কোথাও যেতে সিএনজি তো দূর কি বাত পারলে লোকাল বাসই ভরসা । রেষ্টুরেন্টে মাসে একবার যাওয়াটাও বিলাসিতা । ফোনালাপ...টেক কেয়ার ... অপেক্ষা ... ধুর, ওসব তো ছেলেমানুষী !!!

মেয়েটি এই রুক্ষতার আড়ালেই তার 'পাগল প্রেমিকটিকে' হাতরে খুঁজে । ...কেবল দীর্ঘশ্বাস জমে বুক ভরাট হয় ।

'প্রেম'টা ঘাসফুল হয়ে ফোটে ..... ঘাসফড়িং হয়ে উড়ে যায় !!!

(Collected)

১৮ বছরের এক ছেলে "শিশু"

**নির্মম জোক্স**

১৮ বছরের এক ছেলে "শিশু" তার আম্মুকে বলছেঃ

ছেলেঃ আম্মু আমার বিয়ে করা প্রয়োজন, আমি বিয়ে করতে চাই।
আম্মুঃ ছিঃ বাবা, এসব কথা বলেনা, তোমার তো এখনো বয়স হয়নি, বিয়ে কেমন করে করবে?

ছেলে তখন একটু মন খারাপ করে বাইরে যাবার জন্য দরজার দিকে গেলো। তখন তার আম্মু ডাক দিল

আম্মুঃ কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
ছেলেঃ সোনিয়ার বাসায় যাচ্ছি।
আম্মুঃ কেন সোনিয়ার বাসায় যাচ্ছ?
ছেলেঃ তার সাথে খেলবো।
আম্মুঃ চুপ বেয়াদব ছেলে, সোনিয়ার সাথে কিসের খেলা? লাগবেনা এত খেলা, তোমার বয়স হইসে না?!!

[ সংগৃহীত ]

কাহিনীসংক্ষেপ: দাস্তানে মুজাহিদ - নসীম হিজাযী

আরো যে নামে প্রকাশ হয়েছে বাংলায়: মরণজয়ী
উর্দু নাম: দাস্তানে মুজাহিদ

* * * * *
জাতির দরদী বন্ধু উপমহাদেশের কিংবদন্তীতুল্য ইতিহাস-সচেতন ঔপন্যাসিক নসীম হিজাযী বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে এখন অতি পরিচিত এভং প্রিয় একটি নাম। পাকিস্তানের উর্দু বাষার এ লেখকের জন্ম ১৯১৪ এবং মৃত্যু মার্চ ১৯৯৬ সালে। মুসলিম দুনিয়ায় যে স্বল্পসংখ্যক লেখক ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনায় সার্থক কলম-সৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন নসীম হিজাযী তাঁদের শীর্ষস্থাণীয়। বলা যায়, সাহিত্যের এ মাধ্যমে তাঁর সমকক্ষ তিনি নিজেই। তাঁর লেখায় মুসলমানদের অতীত শৌর্য-বীর্য ,জয়-পরাজয়ের ইতিহাসই কেবল প্রাণবন্ত হয়ে উঠে না; বরং পাঠককে করে তোলে ঈমানে বলে বলীয়ান এবং এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সৃষ্টির স্বপ্নে উদ্দীপ্ত ।ফলে তাঁর রচনা-সম্ভার অনেক ভাষায়ই অনূদিত হয়ে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে এবং আমাদের বাংলা ভাষায়ও। 

সাহিত্যকে বলা হয় জীবনের প্রতিচ্ছবি। আর ইতিহাস হচ্ছে কাল ও জাতির দর্পন। এ দর্পনের দৃশ্যমান বিভিন্ন সময়ের ঘটনা বিশ্লেষণ করে জাতি তার আত্নপরিচয়ের সৌভাগ্য লাভের পাশাপাশি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পাথেয় যোগাড় করতে পারে। সাহিত্যের একটি ব মাধ্যম হচ্ছে উপন্যাস। সাহিত্যের এ বৃহত্তর ক্যানভাসে কাল ও জীবনের ছবি ওঠে আসে অনেক বেশি জীবন্ত হয়ে। এক্ষেত্রে সামাজিক উপন্যাস যেমন পাঠককে সমাজ-সচেতন করে তোলে, তেমনি ঐতিহাসিক উপন্যাস পাঠককে করে তোলে ইতিহাস-সচেতন। আর ইতিহাস-সচেতন মানুষই কেবল বদলে দিতে পারে অশান্ত ও পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত পৃথিবীর চেহারা। 

পূ্র্বেই উল্লেখ করেছি, নসীম হিজাযীর প্রায় সব উপন্যাসিই বিভিন্ন সময় বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। একই উপন্যাস একাধিক ব্যক্তিও অনুবাদ করেছেন। ফলে লাভ হয়েছে, পাঠক সবচে' মার্জিত ও পরিশীলিত অনুবাদটি বেছে নিতে পারছেন। তাছাড়া বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সর্বত্র সবসময় নসীম হিজাযীরসব বই নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় না। জাতির মানস গঠনে এ উপন্যাসগুলোর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এবং উপন্যাসগুলোর গুরুত্বের কথা বিবেচনাকরে এবং উপন্যাসগুলো যাতে সবসময় পাঠকের সহজলভ্য করে রাখা যায় সে লক্ষ্যেই আমরাও এসবের অনুবাদ, প্রকাশ ও বিপণনে অংশীদার হয়েছি। মহান আল্লাহ তায়ালা লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন । আমীন!

thanks to: সমর ইসলাম পরিচালক (সার্বিক), বইঘর
http://www.rokomari.com/book/39485

কাহিনীসংক্ষেপ: লৌহ মানব - নসীম হিজাযী

ইতিহাস জাতির দর্পণ। মেরুদণ্ড সম্পন্ন জাতি সত্ত্বাকে ভঙ্গুর করে দিতে পারে ইতিহাসের বড় নির্দয়-নিষ্ঠুর ছড়ি। মেরুদণ্ডহীন জাতিসত্ত্বাকে পুনঃস্থাপনের জন্য চাই নির্মল-নিস্কলুষ জাতিস্বত্ত্বার ইতিহাস। মজার বিষয় এই যে, আমাদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। পৃথিবীর সবখানেই আমরা বিজয়ী ঘোড়া দাবড়িয়েছি এক সময়। পিরেনিজের সুউচ্চ পর্বতমালা থেকে রোম সাগরের উত্তাল উর্মি মালা একসময় ধন্য হয়েছে এ জাতির বিজয়ী ঘোড়ার পা চুম্বনে। রোম-ইরানের দম্ভের সুইচ্চ কেঁপে ওঠেছে জাতির দৃঢ় ইচ্ছার সম্মুখে। আরল, জাইহুন, নিশাপুর থেকে সুবশাল ভারতের ভূ-ভাগও বাদ যায়নি এ থেকে। হিমালয়ের আকাশচুম্বি উত্থানের মত অতিউচু আমাদের উপখ্যান । ভারত মহাসাগরের ঢেউ ঝুঁটি আজো গেয়ে চলেছে আমাদের যশোগাথা। সিন্ধু, মালাবার, নিরূন, তরাইন কালের সাক্ষী হয়ে আছে। আমাদের স্বর্ণালী ঐতিহ্য আমরা হারিয়েছি নিজের দোষেই। ভঙ্গুর সেই সত্ত্বাকে বলীয়ান করতে দরকার আজ কিছু মর্দে মুমিন সিংহ -সার্দুল পালোয়ান। দরকার কিছু মুহাম্মদ ঘুরী, আইবেক ও হাম্মদের মত দুঃসাহসিক যোদ্ধ। জাতি তাকিয়ে আছে কবে আসবে আবার সেই সুদিন? কবে আবার তরাইনের রণাঙ্গনে তালোয়ারের ঝংকার ওঠবে? যুগের পৃথ্বিরাজদের প্রমোদমহলে কারা কাঁপন ধরাবে? আছে কি এমন অমিত তেজা কোন ঘুরী কিংবা আইবেক? থাকলে তারা কৈ? কোথায়??

http://www.rokomari.com/book/69890

কাহিনীসংক্ষেপ: শেষ প্রান্তর - নসীম হিজাযী

উর্দু নাম: আখেরি চটান

গোবী মরুভূমির দূরন্ত মরুচারী তেমুজিন! ইতিহাসে তার পরিচিত চেংগিস খান! তার নেতৃত্বে মঙ্গোলিয়ার বর্বর বাহিনী জেগে উঠলো দূরন্ত ঝড়ের মত, সভ্যতার দীপশিখা নিভিয়ে দিতে লাগলো একটি একটি করে। ছয়শ' বছর আগে আরব মরু থেকে উঠে এসেছিলো যে মেঘছায়া, তা মানবতার উপর বর্ষন করেছিলো রহমতের বারিধারা। আর ছয়'শ বছর পর গোবীর মরু বুক থেকে উঠলো যে দূরন্ত ধূলিঝড়, তা থেকে বারিবর্ষণ হলোনা। হলো অগ্নিগিরির ধূম উদগীরণ, হলো উত্তপ্ত লাভার উদ্গীরণ! 


সভ্য জগতের কাছে চেংগিস খানের কৌশল ছিলো সম্পূর্ণ নতুন। তাতারদের বিষ্ময়কর সাফল্যের মূলে ছিলো তাদের দূরন্ত গতি! ঘোড়ার নাঙ্গা পিঠের ওপর সওয়ার হয়ে তারা ছুটে বেড়াতো, প্রত্যেকের সাথে থাকতো কয়েকটি করে ঘোড়া, একটি ক্লান্ত হলে অন্যটায় চড়ে বসতো, ক্ষুধা ও পিপাসার জন্যও ওই ঘোড়াই তাদের জন্য ছিলো যথেষ্ট। যেকোন অভিযানে তাদের সাথে থাকতো খুবই সামান্য রসদ! 

আব্বাসীয় খলীফাদের ঘুমে ঢুলুঢুলু অসতর্কতা আর অবিশ্বাস- কোন্দলের জামানায় এলো এ তাতারি গজব! বাগদাদের বিতর্কসভার আলেম ওলামাদের আরাম-আলস্যের আমোদে আচানক প্রচন্ড রোষে হামলে পড়লো দুর্দান্ত মোঙ্গল তাতারীরা। তছনছ করে দিলো তখনকার স্বপ্ন সাধের সাজানো বাগদাদ... 

তবে, ইতিহাসের এই চূড়ান্ত ক্রান্তিলগ্নেও আল্লাহর এক বান্দা বাগদাদের প্রান্ত থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশের অভ্যন্তর পর্যন্ত তাতারীদের সয়লাব রুখে দাঁড়ালেন। তিনি মুর্খ খারেজম শাহের দূরদর্শী বিজ্ঞ পূত্র, যুগের দুরন্ত মুজাহিদ, সত্যিকারের ঈমানদার জালালউদ্দিন! 

চেঙ্গিস খান হালাকু খানদের বর্বরতার প্রতাপের পাশেই সমুজ্জ্বল বীরত্ব ও শাহাদাতের তামান্নায় সর্বস্ব কুরবানী করে ময়দানে ময়দানে বিজয়ের বার্তা বয়ে আনা জালালউদ্দিনের প্রতিরোধের ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই শেষ প্রান্তরের গল্প।

# লেখার উৎস: http://www.rokomari.com/review/3985

সুন্দরী মেয়েটা ছেলেটার পায়ে ধরে বসে পড়লো মাটিতে

সুন্দরী মেয়েটা ছেলেটার পায়ে ধরে বসে পড়লো মাটিতে- প্লিজ তুমি আমাকে বিয়ে করো, নাহলে আমার বিষ খাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।

সোহরাওয়ারদি উদ্যানের আপামর জনতা বসে বসে মজা লুটছিল। আর মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাওয়ার দশা। ছেলেটাও দেখতে সিগারেট খোর ঠেকছে। পাবলিক ভাবছে- কোন কপালে এই সুন্দরী এই ছেলেকে ভালো বেসেছিল।


যুগটাই আসলে এমন। ভালোবাসা নামক সম্পর্কগুলো এখন খুব সস্তা, যত্রতত্র প্রথম দেখা, মিষ্টি হাসি দেখেই ভালোবাসা তৈরি হয়। যদিও পরে মানসিকতার দ্বন্দ্ব, সামাজিক , পারিবারিক প্রেক্ষাপটের অশান্তি, অর্থনৈতিক সমস্যায় ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়। আর বিয়ের আগে সব উজাড় করে দেওয়া নারী সম্প্রদায় ও জানে না আদৌ সে ছেলেটির সাথেই সংসার পাততে পারবে কিনা, কিংবা এই ছেলেটাই পরে তাকে গ্রহন করবে কিনা।


শুধু পার্কেই নয়, সুফিয়া কামাল হলের সামনেও উচ্চ শিক্ষিত মেয়েদেরও এই ধরনের অকাল কুষ্মাণ্ডদের সামনে দাড়িয়ে অরণ্যে রোদন করতে দেখেছি। অবাক লেগেছে। কিন্তু , বাস্তবতা এটাই যে, শিক্ষিত অশিক্ষিত সব নির্বিশেষে মেয়েরা এখনো এক যায়গায়ই দাড়িয়ে আছে। তা হলো নিজের সম্মান বা মর্যাদাকে নিজেরাই ভুলন্থিত করে । শুধু ছেলেদের শ্রেণী ভেদ কিংবা সামাজিক মর্যাদা এক্ষেত্রে হয়তো পার্থক্য করে।
তাই এই ধরনের সাময়িক সম্পর্কগুলো থেকে মেয়েরা আসলে নিজেদের প্রাপ্য মর্যাদা এবং অধিকারই বঞ্চিত হয়, এবং হয়ে আসছে অনাদি কাল থেকেই।


নিকাহ আরবি শব্দ এর একটা অর্থ হয় ইহসান করা, আরেকটা অর্থ হয় সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ। বিয়ে সেই দুর্গ বলেই হয়তো ইসলামে বিয়ের আরবি প্রতি শব্দটা নিকাহ। আর এই ইহসান থেকেই সূচনা হয় অধিকারবোধ এবং অধিকার আদায়ের।

আর যে সম্পর্কে ইহসান নয়, সামাজিক সম্মান নয়, শুধু নারী দেহ ভোগই মুখ্য, সেই সম্পর্কে অধিকার বোধ আসার প্রশ্নই আসেনা।


আর ম্যানেজম্যান্টের ভাষায় বললে- ডিমান্ড সাইড যতো শক্তিশালী হয়, সাপ্লাই সাইড সেই অনুযায়ী সাপ্লাই করতে বাধ্য হয়। পুরোটা না দিতে না পারলেও কিছু তো দেওয়ার চেষ্টা করবে।
যেখানে মেয়েদের চাওয়াই নেই নিজের সম্মানের, মর্যাদার, সেখানে এইসব সুবিধাবাদী, ভোগবাদী পুরুষ সমাজের কোন প্রয়োজন কি আছে সেধে সেধে অধিকার দিতে যাওয়ার?


হাজার হোক, মুফতে পেলে তো বাঙ্গালী আলকাতরা ও গায়ে মাখে, তাই না? আর নারী তো এরচেয়ে হাজার গুণ লভনীয় জিনিষ। যাকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে জগতের সব চাওয়া পাওয়ার বৃত্তগুলো। তাদের যদি এতো সহজে পাওয়া যায় নিকাহ নামের ইহসানের দুর্গ তৈরি করবে ভোগবাদী স্বার্থপর পুরুষরা, এটা ভাবাই তো সময় নষ্ট। আর যে নারী নিজেও জানে সে নির্যাতিত সম্প্রদায়ের অধিকারী, বলে কয়ে ঢাক ঢোল পেটানো সামাজিক বৈবাহিক সম্পর্কেই যেখানে সে প্রাপ্যগুলো বুঝে নিতে পারেনা, ১০ জন মুরুব্বী কিংবা নিজের বাবার মীমাংসা সত্ত্বেও সেখানে নিজে নিজে সবার আড়ালে একটা অপকর্ম করে তার অধিকার চাইতে গেলেই অধিকার পাওয়া যাবে এই ধারনাটাই তো যুক্তিহীন অসাড়। হাজার হোক, যে নিজেই নিজের সম্মান করতে জানে না,অন্যরা তাকে সম্মান কীভাবে করবে?

------ শেখ সাফওয়ানা জেরিন

নসীম হিজাযীর অমূল্য উপন্যাসসমূহের নাম ও বিষয়বস্তু

নসীম হিজাযী: উপমহাদেশের ওয়াল্টার স্কট

নসীম হিজাযী-- নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন এবং উর্দু ভাষার সাহিত্যিক দের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী। ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনায় ও তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। কবিতা নির্ভর উর্দু সাহিত্যে গদ্যশিল্পি হিসেবেই তাকেই প্রধান বিবেচনা করা যায়। তার সমসাময়িক সাদত হাসান মান্টো,ইসমত চুঘতাই, কুররাতুল আইন হায়দার বা ইবনে শাফি উর্দুভাষায় গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও তাদের প্রধান সাফল্য ছিল ছোট গল্পে। উপন্যাস রচয়িতা বিশেষ করে ঐতিহাসিক উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে তার স্থান সবার থেকে উপরে। আদর্শগতভাবেও নসীম হিজাযী তার সমসাময়িক সাহিত্যিকদের অনেক বিপরীত। ভারত বিভাগের সময় নিজের জন্মভূমি ছেড়ে আসতে বাধ্য হওয়া নসীম হিজাযী ছিলেন ইসলামের একজন একনিষ্ঠ অনুসারি ও ইসলামের ইতিহাসের একজন গবেষক। অন্যদিকে তার রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গুলির ঐতিহাসিক সত্যতা ও প্রশ্নাতিত। ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে রোমান্টিক কাহিনী সংযোজন করে একই সঙ্গে সুখপাঠ্য উপন্যাস রচনায় তাকে স্যার ওয়াল্টার স্কট এর সমকক্ষ বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে স্যার ওয়াল্টার স্কটের তুলনায় তার রচনায় ঐতিহাসিক তথ্যের কোন ভুল বা মিথ্যার উপস্থিতি নাই। বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক উপন্যাসের প্রথম লেখক বঙ্কিমচন্দ্র যে দোষে খুবই দুষ্ট। বঙ্কিম নিজের আদর্শ প্রচারে ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি ঘটাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। সে খানে নসীম হিজাযী তার ঐতিহাসিক সচেতনতা ও নির্ভুলতার জন্য বিশেষ ভাবে আলোচিত।

নসীম হিজাযীর জন্ম অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব এর গুরুদাসপুর জিলার সুজ্জানপুর গ্রামে ১৯১৪ সালে। তিনি সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ শরিফ। যতটুক জানা যায় তিনি লাহোরে বি,এ পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। নিজেদের জমিজমা দেখাশুনা করাই ছিল তার জীবিকা। বিভাগপুর্ব সময়ে অল্প লেখালেখিও করতেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তান যখন স্বাধীন হয় তখন গুরুদাসপুর জিলা মুসলিম প্রধান হিসেবে পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্ত হয়। কিন্তু ১৭ই আগষ্ট রেডক্লিফ কমিশনের রোয়েদাদ ঘোষিত হয় এবং সকল যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে গুরুদাসপুর জেলাকে ভারতে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় নসীম হিজাযী হিজরত করে পাকিস্তানে চলে আসতে বাধ্য হন। তার জীবনের এই ঘটনা গুলি তিনি পরবর্তিতে উপন্যাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। পাকিস্তান আসার পর তিনি সাহিত্যিক এর জীবন যে বেছে নেন। নিভৃতচারী এই উপন্যাসিক ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল করেন। ঐতিহাসিক উপন্যাস ছাড়াও তিনি কয়েকটি ব্যাঙ্গ রচনাও লিখেছেন। তার বেশিরভাগ উপন্যাস এরই মধ্যে বাংলা অনুবাদ হয়েছে। নসীম হিজাযী উপমহাদেশ,স্পেন ও আরবের ইতিহাস নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছেন।

তার রচিত উপন্যাসগুলোর বিবরণ:

স্পেন সংক্রান্ত

১.ইউসুফ বিন তাশফিন: বাংলায় একই নামে অনুদিত। স্পেনে মরক্কোর সুলতান ইউসুফ বিন তাশফিন এর অভিযান এর কথা এই উপন্যাসের বিষয়।
২. শাহিন: "সিমান্ত ঈগল" নামে অনুদিত। স্পেন এর পতনের সময় সিয়েরা নিবেদা অঞ্চলে বদর বিন মুগিরার সংগ্রামের কথা এই উপন্যাসের বিষয়। বদর বিন মুগিরা স্পেনের ঈগল নামে খ্যাত ছিলেন।
৩. আধেঁরি রাত কি মুসাফির: "আঁধার রাতের মুসাফির" নামে অনুদিত। এই উপন্যাসের বিষয় গ্রানাডাকে রক্ষার শেষ চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত কুখ্যাত এপ্রিল ফুল এর মাধ্যমে গ্রানাডার পতন।
৪. কলিসা আওর আগ (গির্জা ও আগুন): "শেষ রাতের মুসাফির" ও "শেষ বিকালের কান্না" নামে অনুদিত। এটি আধেঁরি রাত কি মুসাফির এর সিক্যুয়েল। গ্রানাডার পতনের পরবর্তি স্পেন এর মুসলিমদের অবস্থা ও কুখ্যাত ষ্পেনিশ ইনকুইজিশন এর অত্যাচার এর ইতিহাস এই উপন্যাসে আলোচিত হয়েছে।

ইসলাম পুর্ব ও প্রাথমিক যুগ

৫.কায়সার ও কিসরা: ইসলাম পুর্ব আরবের ইতিহাস ও গোত্রীয় দ্বন্দ্ব এবং তৎকালিন দুই পরাশক্তি রোম ও ইরানের যুদ্ধ এই উপন্যাসের কাহিনী। ইসলামের আবির্ভাব ও বিজয় এর কাহিনী এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
৬. কাফেলায়ে হেজাজ: "হেজাজের কাফেলা' নামে অনূদিত। ইসলাম পুর্ব ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে কাদিসিয়ার যুদ্ধের পরবর্তি অবস্থা এই উপন্যাসের বিষয়।
৭. দাস্তান ই মুজাহিদ: "মরণজয়ী" নামে অনুদিত। এই উপন্যাসে খলিফ ওয়ালিদ এর সময় মুহাম্মদ বিন কাসিম, কুতায়বা বিন মুসলিম, মুসা বিন নুসাইর ও তারিক বিন যিয়াদ এর কাহিনী বর্নিত হয়েছে।
৮.মুহাম্মদ বিন কাসিম: শ্রীলংকার সাথে আরবদের বানিজ্যিক সম্পর্ক, ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের জীবন ও সিন্ধু বিজয়ের কাহিনী এই উপন্যাসের বিষয়।

আব্বাসিয় খিলাফতের পতন:

৯.আখেরি চাটান: "শেষ প্রান্তর" নামে অনুদিত। চেঙ্গিস খান ও হালাকু খান কতৃক মুসলিম জাহানের উপর হামলা ও ধ্বংসের ইতিহাস এই উপন্যাসের বিষয়।
১০.আখেরি মায়ারকাঃ "চুড়ান্ত লড়াই' নামে অনূদিত।

উপমহাদেশ: 
১১.ইনসান আওর দেওতা: "আলোর কুসুম" ও "মানুষ ও দেবতা" নামে অনুদিত। ইসলাম পুর্ব ভারতিয় সমাজের অবস্থা বিশেষ করে বর্নাশ্রম ও অস্পৃশ্যতা এই উপন্যাসের বিষয়।
১২. মুয়াযযম আলি: "খুন রাঙ্গা পথ" নামে অনুদিত। এই উপন্যাসে নবাব আলিবর্দি খান ও নবাব সিরাজদেীলার পতন। পানিপথের তৃত্বিয় যুদ্ধ এবং ইংরেজদের উপমহাদেশের দখলের ইতিহাস বর্নিত হয়েছে।
১৩.আওর তলোয়ার টুট গেয়ি: "ভেঙ্গে গেলো তলোয়ার" নামে অনূদিত। এটি "মুযাযযম আলি" এর সিক্যুয়েল। এই উপন্যাসে মহিশুরের ব্যাঘ্র টিপু সুলতানের সংগ্রামের কাহিনী বর্নিত হয়েছে। যাকে পরাজিত করে ইংরেজরা উপমহাদেশের পূর্ন নিয়ন্ত্রন লাভ করে।
১৪.খাক আওর খুন: "ভারত যখন ভাঙ্গলো" নামে প্রকাশিত।এই উপন্যাসে ভারত বিভাগের ইতিহাস এবং বিভাগের সময় হিন্দু ও শিখ কতৃক মুসলিমদের উপর হামলার কাহিনী বর্নিত হয়েছে। পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জিলা যা প্রথমে ভোটের ভিত্তিতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও রেডক্লিফ এর ষড়যন্ত্রে ১৭ই আগষ্ট ভারত ভুক্ত হয় তার ইতিহাস এবং কাশ্মির যুদ্ধ এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে একটি ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে যা উর্দু চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে হিট বলে বিবেচিত।

১৫. পরদেশি দিরখাত(পরদেশি গাছ): "অপরাজিত" নামে অনূদিত। বিভাগ পুর্ব উপমহাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা এই উপন্যাসের বিষয় বস্তু। এই উপন্যাস এবং এর সিক্যুয়েল "গুম শুদা কাফিলা" নসীম হিজাযীর নিজের জীবনের কাহিনী নিয়ে লিখা।
১৬. গুমশুদা কাফিলা(হারানো কাফিলা): "রক্ত নদী পেরিয়ে" নামে অনুদিত। ভারত বিভাগ এর সময় ঘটে যাওয়া দাঙ্গা এবং বিভাগ পরবর্তি ইতিহাস এই উপন্যাসের বিষয়।

এছাড়াও নসীম হিজাযী কয়েকটি রম্য ব্যাঙ্গ রচনা ও লিখেছেন যেগুলি হচ্ছেঃ

১৭. সাকফাত কি তালাশ (সংস্কৃতিক সন্ধান)।
১৮.পুরস কি হাতি( পুরুও হাতি)।
১৯,সও সাল বাদ(শতবর্ষ পরে)।
২০.সফেদ জাযিরা(সাদা দ্বীপ) : এই রম্য উপন্যাস টিতে পাকিস্তানের আইয়ুব খানের শাসন এর সময়কালকে ব্যাঙ্গ করা হয়েছে।

ইউসুফ নবী প্রেম করেছেন একথা বলা হলো নবীর উপরে মিথ্যা অপবাদ

//"যে মহিলাটির ঘরে সে ছিলো সে তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে থাকলো এবং একদিন সে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বললো, "চলে এসো"। ইউসুফ বললো, "আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি, আমার রব তো আমাকে ভালোই মর্যাদা দিয়েছেন (আর আমি এ কাজ করবো!) । এ ধরণের জালিমরা কখনো কল্যান লাভ করতে পারেনা।" মহিলাটি তার দিকে এগিয়ে এলো এবং ইউসুফও তার দিয়ে যেতো যদি না তার রবের জ্বলন্ত প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতো। এমনটিই হলো, যাতে আমি তার থেকে অসৎবৃত্তি ও অশ্লীলতা দূর করতে পারি। আসলে সে ছিলো আমার নির্বাচিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা ইউসুফঃ ২৩-২৪)//

প্রসঙ্গ : বোরকা পরে প্রেম করে হাত ধরাধরি করে হাটলেও নাকি এটা হালাল প্রেম !!! (আল্লাহ রক্ষা কর)।
"মানুষের মধ্যে ইদানিং খুব সচেতনতা Grow করেছে কিছু শুনলে দলিল চায়। অত্যন্ত ভাল আলামত। তাই একজন আমার কাছে দলিলও চেয়ে বসল। আমি বললাম আল্লাহ কি কুরআনে সুরা নূরে ৩০ নং আয়াতে পুরুষদেরকে এবং ৩১ নং আয়াতে নারীদেরকে দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেন নি?

যেখানে চোখ পড়লেই ইসলামে দৃষ্টি সরানোর কথা বলেছেন সেখানে TSC , ধানমন্ডি লেক কিংবা ফুলার রোডের রাস্তার পাশে বসে পুতুপুতু কথা বলা ইসলাম জায়েজ করে এ চিন্তা আসল কোথায় থেকে?

মহানবী (সাঃ) বলেছেন কোন জায়গায় ছেলে ও মেয়ে একা একসাথে থাকলে তৃতীয়জন হচ্ছে শয়তান"।

অনেকে আবার প্রেম পবিত্র, প্রেম শ্বাশ্বত-স্বর্গীয়। এসকল বুলি আওড়ায়। ভাই দলিল কি? ঐযে বাংলা সিনেমা: ইলিয়াস কাঞ্চন অন্জু ঘোষকে বলেছে!

Amazing

আমাদের গানে গানে প্রচার করা হয়

"প্রেম করেছেন ইউসুফ নবী, তার প্রেমে জুলেখা বিবি গোওওওওও",

হারাম ! হারাম ! গানে-গানে আল্লাহর এক নবীর নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে।ইবনে কাসীর থেকে সুরা ইউসুফ এর তাফসীর খানা পড়ে নিন।

ইদানিং আবার হালাল প্রেমের জোয়ারে ও দুএকজন গা ভাসিয়েছে, বোরকা পরে প্রেম করে হাত ধরাধরি করে হাটলেও নাকি এটা হালাল প্রেম !!! (আল্লাহ রক্ষা কর), আর সত্যিই আজিব এসমাজ ব্যাবস্থা !

আপনার বিয়ের বয়স হয়েছে আপনাকে বিয়ে দেবে না, অথচ প্রেম করলে কোন দোষ নাই। তাড়াতাড়ি বিয়ে করলে প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমস্যা, হ্যানতেনের লিষ্ট দেখায়।''

courtesy- Brother MuZahid Rasel

সানিন ! পেপসি খাবা?

সানিন ! পেপসি খাবা? ~

চট্টগ্রামের যে এলাকাতে এখন আছি, এখান থেকে সবচেয়ে কাছের বাজার হল ইয়াসিনের হাট। আসরের পর কিছু ওষুধ কেনার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। বাজারে পৌছতেই দেখা হল পরিচিত এক বড় ভাইয়ের সাথে। এ ভাইয়ের সাথে ঈদের দিনেও একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেটাও আগে একদিন শেয়ার করেছিলাম।

যাই হোক, দেখা হতেই সালাম আদান প্রদান হল। এরপর তিনি অনেকটা জোর করেই একটি মিষ্টির দোকানে নিয়ে গেলেন। বারবার চাপাচাপি করছেন, কিছু খেতেই হবে। রাজি হওয়াতে তিনি মিষ্টির অর্ডার দিলেন। খাওয়ার শেষ পর্যায়ে তিনি বললেন,

- সানিন (আমার ডাক নাম) পেপসি খাবা? এখানে তো পেপসি ছাড়া আর কিছুই নেই। – একথা বলেই তিনি দুটি পেপসির অর্ডার দিলেন।

- ভাইয়া! আমি পেপসি খাব না। আমাকে বরং ঠাণ্ডা পানি দেন।

তিনি বুঝলেন আমি কেন খেতে চাচ্ছিনা। এতটুকু সম্মান অন্তত তখন তিনি করলেন, আমাকে আর জোর করলেন না। কিন্তু নিজের জন্য ঠিকই নিলেন।
দুই তিন মিনিট পার হওয়ার পর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,
-কেন খাবে না? ইহুদি প্রডাক্ট দেখে?
-জী

সাথে সাথে তিনি এত জোরে হেসে উঠলেন যেন আমি একটি মজার কৌতুক বলেছি।

-আরে বেকুব! তোমার মত এমন নিরামিষদের নিয়েই যত সমস্যা। আচ্ছা, তোমার কি মনে হয়? আমি তুমি পেপসি খাওয়া বন্ধ করে দিলেই কি ফিলিস্তিনে হামলা বন্ধ হয়ে যাবে? আরে আমি তুমি কেন, পুরো মুসলিম বিশ্বও যদি ইহুদি প্রডাক্ট বর্জন করে, তাহলেও কোন লাভ হবে না। ওদের এ কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হবে, সেটা অন্য দিক দিয়ে ঠিকই ওরা পুষিয়ে নিবে। এই সব ফালতু আবেগ যত তাড়াতাড়ি বাদ দিবা, ততই ভাল।

-ভাইয়া! একটি কথা বলতে চাই। যদি আমাকে পুরোটা বলতে দেন আর মাইন্ড না করেন, তাহলে বলব।

অনুমতি পেয়ে বলতে শুরু করলাম,
-আপনার বাবাকে তো ওইদিন দেখতে গেলাম। আপনি বাসায় ছিলেন না তখন। অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে, তাই না। আমরা যখন গিয়েছিলাম, ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। আচ্ছা ধরেন, আমি আপনার এই বৃদ্ধ বাবাকে একটি চাপাতি দিয়ে আধা ঘণ্টা যাবত কেবল কোপালাম। কোপাতে কোপাতে চালনী বানিয়ে এরপর থামলাম। তারপর......

শেষ করতে পারলাম না। প্রচণ্ড রাগ হয়ে গেলেন।
-তোমাকে তো ভদ্র ছেলে মনে করেছিলাম। এগুলো কি বলতেস?

এবার আমাকে একটু গরম হতেই হল।
-আমি অভদ্র, বেয়াদব, আরও অনেক কিছু। কিন্তু আমার কথা আপনাকে পুরোটা আজ শুনতেই হবে। আপনি ঈদের দিনেও একটা ফালতু কথা বলেছেন, আমি কিছুই বলিনি।

রাগ হতে আজ তিনি প্রথম দেখলেন। থতমত খেয়ে বললেন, আচ্ছা বল, কি বলবা?

-হুম। যেটা বলছিলাম আর কি। তো আপনার বাবাকে এভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে মেরে ফেলার পর আমি সবার সামনে দিয়ে আপনার বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম। সবাই জানল, কে মেরেছে। কিন্তু কারোরই কিছু করার ক্ষমতা নেই, সাহস নেই। এভাবে এক দুই দিন পার হওয়ার পর কোন একটি উপলক্ষে আমি আমার বাসায় খাওয়া দাওয়া আয়োজন করলাম এবং সেখানে সপরিবারে আপনাকেও দাওয়াত দিলাম।
তো, আপনি কি আসবেন?

আবার রাগ হয়ে গেলেন।
-মিয়া ! তোমাকে তখন সামনে পাইলে দুই হাত দিয়া ধরে মাঝখান থেকে ফেড়ে ফেলতাম। তুমি বলতেস দাওয়াত খাওয়ার কথা। বল কেমনে এ সমস্ত উদ্ভট কথাবার্তা।

মুচকি হেসে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করলাম। গাযযার কয়েকটি ছবি তাকে দেখালাম।

-এইযে ছিন্নভিন্ন দেহটা দেখছেন, এটা কারো বাবা,আমার আপনার মুসলিম ভাই। আর এইযে দুভাগ হয়ে যাওয়া মেয়েটিকে দেখছেন, এটা কারো মেয়ে, আমার আপনার মুসলিম বোন। কারা মেরেছে জানেন? আপনার হাতে পেপসিটা যারা তৈরি করেছে, তারা।

ভাইয়া ! আমি পেপসি এ উদ্দেশ্যে খাওয়া ছাড়িনি যে, এতে করে আমি ইহুদি বা ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ধস নামাতে পারব। আমি লাভ ক্ষতির হিসেব করে খাওয়া ছাড়িনি। আমিতো এ জন্য খাবনা,কেননা আমার মুখে উঠে না। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর রক্তাক্ত হাতে বানানো প্রডাক্ট আমার মুখে উঠে না, তাই আমি খাব না। আল্লাহর কসম! এ পেপসি দেখলেই আমার মনে পড়ে, এ ছবিগুলোর কথা। আমি খেতে পারিনা ভাইয়া। আপনার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই বাস্তব।
আমি জানি না, এভাবে আমি কয়টা প্রডাক্ট বর্জন করতে পারব। কিন্তু আমি চেষ্টা করে যাব, যতটুকু সম্ভব।

একটানে এত গুলো কথা বলে নিচের দিকে তাকিয়ে একটু নিশ্বাস নিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি আওয়াজে চমকে উঠলাম। আল্লাহ তাআলা আমার এই ভাইটিকে কবুল করেন, হাতে থাকা পেপসির বোতল সামান্য পেপসি সহই ছুড়ে মারলেন। সবসময় তুমি করে বলতেন, এখন তুই করে বলে উঠলেন,

-ভাইরে! আমি আগে কখনও এই এঙ্গেল থেকে চিন্তা করিনি। আমি সরি, না বুঝে তোকে অনেক কথা বলে ফেলেছি। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, যতদিন বেঁচে থাকবো, ইনশাআল্লাহ আর কোন দিন পেপসি ছুঁয়েও দেখব না.........

-- Rizwanul Kabir

মেয়েকে যখন কুরআনের গল্পগুলো বলি

মেয়েকে যখন কুরআনের গল্পগুলো বলি, প্রায়ই মনে হয় যে ভবিষ্যতের কথা তো জানিনা, কিন্তু এদের বর্তমানটা দেখলে অবাক লাগে। ও এবং ওর মত আরও অনেকে বড় হচ্ছে মাথাটা রূপকথা দিয়ে ভর্তি না করে!! সুবহানআল্লাহ!

পড়ার অভ্যাস আজীবন ছিল, তাই ছোট বয়সটায় হাতের কাছে পাওয়া কোনও রূপকথার বই পড়া বাদ দিইনি। ঠাকুমার ঝুলি, ইউক্রেনের বই, রুশ বই, অমুক দেশের রূপকথা আর তমুক দেশের রূপকথা আর ফেইরি টেলস তো আছেই। আর বড় হতে হতে আরও কত কি!!

তাই আমি জানি, রূপকথা হল রূপকথাই। বাস্তব কোনদিন ওর ধারে কাছেও যায়না। বরং ওসব শিখিয়ে দেয় জীবনের অন্য এক লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য-- "এই পৃথিবীতে চিরসুখে বসবাস করা" যা কখনও সম্ভব না। প্রায়ই যখন নিজেকে দেখি, অন্যকে দেখি, জীবনে এটা সেটা নিজেদের মনমত না হয়াতে হতাশ হতে, অথবা শুনি কেউ রেজাল্ট খারাপ করে আত্মহত্যা করছে অথবা প্রেমে বিফল হয়ে, অথবা জীবনের জটিল পর্বগুলোতে দিশেহারা হচ্ছে, তখন মনে পড়ে আমাদের থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী হবে, আমরা হচ্ছি "রূপকথা জেনারেশান"!!!

এই বাচ্চাগুলি আল্লাহর অশেষ রহমতে জানেনা এখনো যে একা একা গভীর রাতে বেড়িয়ে ফিরলেও রাজকুমার আসে বাঁচাতে (বাস্তবে রাজকুমারের হাত থেকে বাঁচানোটা আরেক দুশ্চিন্তা!) এরা এখনো জানেনা যে সাতটা বামুন লোকের সাথে নিশ্চিন্তে(!!!)এক বাসায় থাকা যায়। শুনতে খারাপ লাগছে, তাই না? কি জানি! যখন পড়েছি, কার্টুন দেখেছি তখন তো খারাপ লাগতো না, মনে হত ওটাই লাইফ!!!

এবং আমার একান্ত নিজের একটি ধারণা যে এই বাচ্চাকালের আজগুবি গল্পগুলো টিনেজ বয়সে মারাত্মক প্রভাব ফেলে!! কল্পনার জগতের ভিত্তিই যে রূপকথা!!

যাই হোক, পাঁচ বছর বয়সে আমাদের তো কেউ কুরআনের গল্প বলেনি-- কুরআন যেহেতু গিলাফে ভরে শেলফে রাখার জিনিস(!!!) তাই! মেয়েকে বলতে গিয়ে নিজেও জানছি। সুবহানআল্লাহ, এত চমৎকার বাস্তব সব কাহিনী থাকতে কী প্রয়োজন বাচ্চাদের মাথায় গারবেজ ঢুকানোর???

একটা বাচ্চা জেনে বড় হতে পারে যে তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য চিরসুখীই হওয়া, কিন্তু আখিরাতে যেখানে তা আসলেই সম্ভব!! জেনে বড় হতে পারে যে তার এমন আশ্রয় আছে যিনি ইব্রাহীম (আ) কে আগুন থেকে বাঁচাতে পারেন, হারানো ইউসুফকে (আ) তাঁর বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারেন। যিনি আমাদের কথা শুনতে পান, কেউ আমাদের জন্য না থাকলেও তিনি থাকেন!! জেনে বড় হতে পারে জীবনটা সিনেমা না, এতে কষ্ট আছে, বিপদ আছে, না পাওয়া আছে-- কারণ জীবনটা সামান্য একটু সময় মাত্র। চিরসুখী হওয়ার জন্য যথেষ্ট বড় না!!

আপনি ধার্মিক না?? সমস্যা নেই! তবু বাচ্চাদের কুরআনের গল্প, ইসলামের গল্পগুলো বলুন। অন্তত মস্ত ফাঁকিকে সত্যি বলে জেনে বড় হবে না ইনশাআল্লাহ!

ইংরেজি শেখানো দরকার? ইংরেজিতে চমৎকার বই পাওয়া যায় ইসলামের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা সহ, ছবি সহ!! ইন্টারনেটে অনেক কিছু পাওয়া যায়!!!

ওরা বড় হয়ে কী হবে সেতো আল্লাহই ভালো জানেন। আমাদের কাজ চেষ্টা করা আর দোয়া করা!! আর ওদের মাথায় আকাশ কুসুম কল্পনা ঠেসে দিয়ে বাস্তব থেকে দূরে নিয়ে এক অদ্ভুত অসুস্থতায় যদি বড় করি, তার হিসাব কিন্তু আমাদেরই দিতে হবে!! দুনিয়াতে এবং আখিরাতে! আল্লাহ যেন সেই ভয়াবহ কষ্ট থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন, আমাদের সন্তানদেরও! আমীন!

Courtesy - Nayla Nuzhat