মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু-খৃষ্টান বৌদ্ধ ঐক্য

অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে মুসলিমরা যে জায়গাটিতে পিছিয়ে আছে, তা হল একতা।অথচ ইসলামেই ভ্রাতৃত্বকে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে!

ইহুদীদের কথা না-ই বা বললাম।বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টানরা কিন্তু কম একতাবদ্ধ নয়।ক্লোজ-আপ ওয়ান তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় নিশিতা বড়ুয়া নামে এক হেড়ে গলার মেয়ে বহু মেধাবী প্রতিযোগীকে টপকে তৃতীয় হয়েছিল কেবল বড়ুয়া বলে।বৌদ্ধরা নিজেরা তো ভোট করেছেই এমনকি তাদের অধীনস্ত কর্মচারী, সিএ ফার্মের ছাত্রদেরও ভোট করতে বলেছিল।মজার ব্যাপার হল, আমরা মুসলিমরাই দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ মেনে নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ সকলকে আপন করে নেই।ওরা কিন্তু ধর্মকে দেশের উপরে স্থান দেয়।
#supportgaza হ্যাশট্যাগ এ আমার লেখাগুলোতে এক বাংলাদেশি খ্রিষ্টান খুব বাজে মন্তব্য করেছিল।তারমানে সে বাঙালী, আমরাও বাঙালী-এই মর্মে সে একমত হতে পারেনি বরং সে খ্রিষ্টান, আমরা মুসলিম এতে তারকাছে ইহুদীরা বাঙালী মুসলিমের থেকে আপন মনে হয়েছে! হোক সে পাপী, তবুও!

ঢাকায় অনেক এলাকাতেই cp chicken নামে ফাস্টফুডের দোকান আছে।আমি এর মালিককে চিনি। তিনি একজন বৌদ্ধ।প্রতিটি দোকানের খাবার তার ওখান থেকেই সাপ্লাই হয়।বাবুর্চীও বৌদ্ধ।এবং তারা আল্লাহু আকবার বলা দূরে থাক, মুরগী মেশিনে প্রসেস করে যা কিনা একেবারেই হারাম আমাদের জন্য।

আমাদের অনেকেই বিধর্মী বন্ধুবান্ধব রয়েছে।এদের সাথে মেশার সময় একটা কথা মাথায় রাখা সবার আগে প্রয়োজন, এরা পথভ্রষ্ট।যাদের মত না হওয়া থেকে আমরা দিনে কমপক্ষে আঠারোবার সূরা ফাতিহায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, তাদেরকে জানি দোস্ত বানানো কি করে সম্ভব!হয়ত সে খুব ভাল।একজন মুসলিমের থেকেও ভাল।
মাদার তেরেসাও কিন্তু ভাল ছিলেন!

এর নামই ইবাদাত, এটাই দাসত্ব।আমার কাছে সে যত ভালই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে সে বিপথগামী।আর তাই আমাদের কর্তব্য হল তাদের পুজোর প্রসাদ না খেয়ে তাদের সঠিক পথে আহবান করা।তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, আন্তরিক ব্যবহার নয়। আর তাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা।

-- ফারিজা বিনতে বুলবুল

ঘরে থাকা কি নারীর জন্য অপমানের? আপনি কি ভাবছেন?

আমার মা একজন গৃহিণী। আমার ২১ বছরের জীবনে খুব কমই তাঁকে বিশ্রামরত অবস্থায় দেখেছি। সেই ভোরবেলা থেকে তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়, যা গভীররাতে গিয়ে থামে। আমাদের চার ভাইবোনকে বলতে গেলে তিনি একা হাতে মানুষ করেছেন। বাবা অফিস করতেন, আর বাসায় বিশ্রাম করতেন। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা এবং অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি ওয়াকিবহাল ছিলেন না। এ ব্যাপারে বলতে গেলে পুরো দায়িত্বই ছিল মায়ের উপর। আমি জোর গলায় বলতে পারি সন্তানদের প্রতি তিনি যতটা কেয়ার নিয়েছেন এবং সময় দিয়েছেন খুব কম মা ই এতটা শ্রম দিতে পারেন। প্রায় সারাটা জীবন তিনি সংসারের পেছনে এতটা শ্রম দেওয়ার পরও রোকেয়া প্রাচীদের ভাষায় তিনি কোন কাজ করেননি, 'ঘরে বসে ছিলেন'। কেন? কারণ তাঁর শ্রমের বিনিময়রূপ তিনি কোন অর্থ পান নি। কর্পোরেট দুনিয়া আমাদের আজ শেখায়, সেটাই হল "কাজ" যার দ্বারা অর্থ উপার্জন করা যাবে। কাজেই নারীদের "ঘরে বসে থাকা" দূর করতে তারা শেখালো পুরুষের মত মেয়েরাও বাইরে কাজ না করলে তাদের মর্যাদা নেই। তাই আমার মা'র সারাজীবনের পরিশ্রম এদের কাছে মূল্যহীন, কিন্তু যে নারীরা পণ্যের মডেল হয়ে দুটো টাকার বিনিময়ে শরীর দেখায়, তারা "কর্মজীবী" নারী !! একজন নারী নিজ সংসারের দায়িত্ব পালন করলে সেটা 'শ্রম' না, কিন্তু অন্যের বাড়িতে ক'টা টাকার বিনিময়ে কাজ করে বাড়ির মালিকের গালি শুনলে সেটা হয় "শ্রম" !! সমাজের ভারসাম্য সেইদিন নষ্ট হয়েছে, যেদিন মেয়েদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক সহযোগিতার নয়, প্রতিযোগিতার। মেয়েদের শেখানো হল তাদের "পুরুষ" হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, নইলে কোন দাম নেই। নারীর সম্মান "নারীত্বে" নয়, "পুরুষত্বে", পুরুষের অনুকরণ করার মধ্যেই নারীর সম্মান। পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা না করলে নাকি সমাজে টেকা যাবে না। সেই প্রতিযোগিতার নাম দিয়ে মেয়েদের রাস্তায় নামিয়ে পণ্য বানানো হল। বিজ্ঞাপনের মডেল বানিয়ে ভোগের বিপনন হল। পুরুষের শেভিং ক্রিমের বিজ্ঞাপনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে স্বল্পবসনা নারীর উপস্থিতি কীভাবে নারীর সম্মান বৃদ্ধি করে, আমার মাথায় ঢুকে না। তীব্র শীতের মধ্যেও পুরুষের চোখে কমনীয় হতে কাপড় না খুললে নারীরা যেখানে দাম পায় না, সেই পাশ্চাত্য সমাজ যখন মেয়েদের অধিকার আর মর্যাদার মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেয়, তখন এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। মুখে 'আত্মনির্ভরশীলতার' বুলি ফুটিয়ে পুরুষের "কামনা পূরণের ম্যাটেরিয়াল" হিসেবে ধরিয়ে দিয়ে এরা নিজেদের ব্যবসার মূলধন যোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইসলাম নারীদের মর্যাদা নির্ধারণ করেছে স্ত্রীত্বে, মাতৃত্বে; পুরুষের অনুকরণ করার মধ্যে নয়। ইসলামে নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক, প্রতিযোগী নয়। একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। দুজনের ক্ষেত্র পৃথক, সম্মানের মানদণ্ডটাও পৃথক। সমানাধিকারের নামে নারী-পুরুষ উভয়কে অপমান করার প্রথার এখানে জায়গা নেই। ইসলাম নারীদের হিজাব পালন করে হালাল রুজি অনুসন্ধানে বাধা দেয় না। কিন্তু ইসলাম নারীবাদীদের মত কখনোই বলে না, বাইরে কাজ করার মধ্যেই মেয়েদের সম্মান নিহিত। ইসলামে সর্বোচ্চ সম্মানিত চারজন নারীর কেউই ব্যবসা বা আউটডোর ওয়ার্কের জন্য এ মর্যাদা পান নি, বরং একজন মা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে বা কন্যা হিসেবে পূর্ণরূপে দায়িত্ব পালনেই এ সম্মানের অধিকারিণী হয়েছেন। সমাজে পুরুষ আর নারীর রোলের তুলনাটা Nazmus Sakib ভাই চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন ফুটবল দলের মাধ্যমে। একটা ফুটবল দলে গোলকিপার, ডিফেন্ডার, স্ট্রাইকার সবাই থাকে এবং সবার আলাদা আলাদা দায়িত্ব আছে। এখন আপনি বলতে পারবেন না কার কাজটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর কারটা কম। এখন আপনি গোলকিপারকে স্ট্রাইকারের জায়গায় বসিয়ে স্ট্রাইকারকে গোলকিপিং করতে দিয়ে কি জেতার আশা করতে পারেন? কিংবা স্ট্রাইকার যদি বলে-"আমাকে গোলকিপিং করতে না দিয়ে আমার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে" তাহলে কি যুক্তসংগত দাবি হবে? তেমনি নারী-পুরুষের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও তাদের সকল দিক থেকে "সমান" বানানোর প্রচেষ্টা কি সমর্থনযোগ্য? এতে কি উভয়কেই অসম্মান করা হচ্ছে না? একজন মা তার সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র কাছে যে সম্মানের অধিকারিণী হন, বাইরে চাকরি করে কস্মিনকালেও সেটা পাবেন না। আবার বাইরে কাজে বেশি সময় দেওয়ায় যদি সন্তান তার হক্ব থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তাকে জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহ্‌র দরবারে। বাইরে কাজ করতে নিষেধ নেই বটে, কিন্তু সেটার প্রতিই বেশি জোর দেওয়ায় যে আমাদের সমাজের কত নারী নিজ পরিবারের প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করে গুনাহগার হচ্ছেন, তা আমরা হিসাব করে দেখছি কি? অনেকে আপত্তি জানিয়ে বলবেন, কিন্তু এমন অনেক ক্ষেত্র আছে, যেখানে মেয়েদের কাজ করা আবশ্যক। যেমন গাইনির ডাক্তার, নার্স, শিক্ষকতা ইত্যাদি। কথাটা অবশ্যই সত্য এবং আমি তা বিশ্বাসও করি। আমি এক্ষেত্রেও ফুটবলের উদাহরণটা টানব। একজন ডিফেন্ডারের প্রধান কাজ গোল বাঁচানো এবং স্ট্রাইকারের কাজ গোল দেওয়া, তার মানে কি এমন যে স্ট্রাইকার গোল সেভ করতে বা ডিফেন্ডার গোল দিতে পারবেন না? বরং অনেকসময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে এটাই আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেমন একজন ডিফেন্ডার যদি প্রতিপক্ষের গোলমুখে বল পেয়ে যান, তখন কি তিনি স্ট্রাইকারকে বল দেওয়ার অপেক্ষা করবেন? তাহলে তো গোল মিস হয়ে যাবে। আবার একজন স্ট্রাইকার যদি নিজের দলের ডি বক্সে থাকেন আর তখন প্রতিপক্ষ আক্রমণ করে, তিনি কি সেভ করার চেষ্টা করবেন না? বরং সেটা না করলেই বিপদ। কিংবদন্তি ডিফেন্ডার রবার্তো কার্লোস বেশকিছু গোল করেছেন আবার মেসিও অনেক সেভ করেছে। তারমানে কিন্তু এই না যে আমরা কার্লোসকে গোল করা বা মেসিকে গোল সেভের জন্য মনে রাখব। তেমনি অনেক পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ আবশ্যক বটে, কিন্তু তার মানে এই না যে ঐসকল পেশাই নারীদের প্রকৃত মর্যাদার জায়গা। আসলে সেক্যুলার সমাজ পরিবারের প্রতি নারীদের পবিত্র দায়িত্ব পালনকে কোন কাজ হিসেবে গণ্য করে না, নারীরা যেন তাদের কথামত চলে এই আশায়। নারীদেরকে পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে, আর আমরাও নিজেদের বিবেক-বুদ্ধিকে কাফিরদের কাছে বন্ধক রেখে মেয়েদের সম্মান দেওয়ার নামে নারী-ব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল করে ছেড়ে দিচ্ছি। আল্লাহ্‌ আমাদের মাফ করুন এবং নিজ নিজ সম্মানের প্রকৃত ক্ষেত্র উপলব্ধির সামর্থ্য দান করুন।

-- জুবায়ের হোসেন

কেন ইসরাইলি পন‍্য বর্জন করবেন?

কেন ইসরাইলি পন‍্য বর্জন করবেন? করে কতটুকুই বা ওদের প্রতিরোধ করতে পারবেন? ইসরাইলি রা ব‍্যবসা বানিজ‍্য আর বুদ্ধির জোরে আজ এই অবস্থানে।অযোগ্য মুসলিম নেতৃত্ব ও কম দায়ী নয়। পন‍্য বর্জন করতে গিয়ে দেখলাম খাবার নুডলস,দুধ, কফি থেকে শুরু করে দেখলাম চুলের শ‍্যাম্পু,প্রসাধনী, সবরকম আইটি পন‍্যের বাজার ইসরাইল এর দখলে! মানুষও দেদার কেনে, পন‍্যের কোয়ালিটি ভাল। ওরা সর্বক্ষেত্রে ব‍্যবসা করছে, অর্থনীতি শক্তিশালী করছে। আর এসব অর্থ ব‍্যায় করছে আধিপত্য বিস্তার আর মুসলিম নিধনের জন‍্য। যার হাতে টাকা আছে, সব কিছুই তার,পূজিবাদী দুনিয়া। পন‍্য বর্জন হলে ব‍্যাবসায় ধ্বস নামবে,অর্থনীতি দূর্বল হবে, আধিপত্য ও কমবে, তবে এতো সহজে না। কোকের বাজারে অলরেডি ধ্বস নেমেছে! আর দেখুন ইসরাইলি রাও করিৎকর্মা। তারা তাদের পন‍্যের বার কোড ৭২৯ চেন্জ করেছে খুব দ্রুত, আমাদের অলস সৌদি বাদশার মতো ২৭ দিন পর একটা বিবৃতি দিয়ে দায়মুক্ত হয়নি। হোক না পন‍্য বর্জনের ডাক একটা ছোট একটা উদ‍্যোগ,কিন্তু একটা মেসেজ তো গেল মুসলিমদের পক্ষ থেকে! যতদিন মার খেয়ে প্রতিবাদ করবেন না, ততদিন আপনি মার খেতেই থাকবেন! আমরা তো খালি অসাম্প্রদায়িক এই কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেল্লাম, কিন্তু ওরা তো ঠিকই সাম্প্রদায়িক, মুসলমান মহিলার দুনিয়া না দেখা গর্ভের শিশুটাকে বুলেটে গেথে পরপারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক আমেরিকা- জাতিসংঘ ও এই সাম্প্রদায়িক মুসলমান খুনের নারকীয় তান্ডবে ক্রমাগত ইসরাইলিদের সমর্থন দিচ্ছে। আর কতো?আর কতো মুসলিমের রক্ত হলে তোরা মাসুম বাচ্চাটাকে মেরে ফেলবি না? বউঝিদের ইজ্জত কেড়ে নিবি না? আর কতো রক্ত হলে প্রেয়সী স্ত্রী র বুক থেকে স্বামী কেড়ে নিবি না? আর কতো রক্তের সাগর হলে তোরা সন্তানদের এতিম বানিয়ে দিবি না? মা বাবার বুক খালি করবি না? কতো? কতো? কতো? বহু ঘুমিয়েছেন,এবার জেগে উঠুন। আজকে মনে করছেন আপনি তো সেইফ,ইসরাইল --আমেরিকা কিছু করবেনা আপনাকে! আফসোস বড়ই ভুলের মধ‍্যে আছেন, চোখ মেলে পাকিস্তানের দিকে দেখুন। ওদের তো পারমাণবিক বোমা আছে, তাও তারা ড্রোনের আঘাতে ছাতু হচ্ছে প্রতিদিন। নেক্সট হতে পারেন আপনি...... জাস্ট উঠে দাড়ান, ঘুরে দাড়িয়ে প্রতিবাদ করুন, দারুন কিছু হয় কিনা দেখুন!

-- মারিয়া কিবতিয়া

শর্ত হৈল নর পাজামা পরিধান করিবে টাখনুর ঊর্ধ্বে এবং নারী পরিধান করিবে পদযুগল ঢাকিয়া

​​
শর্ত হৈল নর পাজামা পরিধান করিবে টাখনুর ঊর্ধ্বে এবং নারী পরিধান করিবে পদযুগল ঢাকিয়া... তবে বাঙালি নর নারীর অবস্থা দৃষ্টে বোধ আসিল, একে অপরের আমলখানা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সহিত তাহারা পালন করিতে আগ্রহী! নরের পাজামা পাদুকার তলে নামিয়া সড়ক সাফে ব্যস্ত এবং নারীর পাজামা রীতিমত সহীহ্ তরিকায় টাখনু হৈতে ঊর্ধ্বমুখে যোজন দূরত্বে অবস্থানরত! বড্ড বিচিত্র এ জনতা..

-- নাজমুস সাকিব

ফেইসবুকের শস্তা জনপ্রিয়তা আপনার কাজের মূল প্রেরণা যেন না হয়

"এরিক হবস্‌বম তার "How to Change the World: Tales of Marx and Marxism" গ্রন্থটিতে একটা সুন্দর তুলনামূলক আলোচনা করেছেন হারবার্ট স্পেনসার ও কার্ল মার্ক্স-এর মাঝে। দুজনেই সমসাময়িক ছিলেন। জীবদ্দশায় স্পেনসারকে তার সময়ের অ্যারিস্টটল মনে করা হোত। জনপ্রিয়তা ছিলো তুঙ্গে। অপরদিকে মার্ক্সের মোটামুটি নুন আনতে পান্তা ফুরায় টাইপের অবস্থা। কেউই তেমন একটা চেনে না। বন্ধু এঙ্গেলসের সাহায্যে চলতেন। অথচ মৃত্যুর পর কার্ল মার্ক্সের কাজ নিয়ে যে আলোড়ন তৈরি হোলো তা এখনও জারি রয়েছে। স্রেফ গুগ্‌ল সার্চ দিলে যে কয়জন গ্রেটদের নাম আগে আসে তাদের মাঝে কেবল ডারউইন আর আইনস্টাইনই তার আগে। কম্যুনিজ্‌মের আপাত মৃত্যু হলেও মার্ক্সের তাৎপর্য এখনও ফুরায়নি বরং তার কাজ নিয়ে স্টাডি নতুন করে আবার চাঙা হচ্ছে (ইন ফ্যাক্ট হবস্‌বমের বইটি এই বিষয়েই)। অপরদিকে স্পেনসারের ব্যাপারে যা কিছু কথা এখন হয় তার সবই অ্যাকাডেমিক। তার কাজের কোনও প্র্যাকটিকাল সিগনিফিকেন্স আর নেই। একই গোরস্তানে দুজনের কবর। একজনের কবরে ভারত বা চায়না থেকে ভক্তরা রেগুলার জিয়ারত করে যায়। আরেকজনের কবর যে ওখানে সেটাই মানুষ জানে না।

যেসব মুসলিম ইসলাম নিয়ে কাজ করছেন তাদের এখান থেকে আসলে লেসন নেয়া উচিৎ। ফেইসবুকের শস্তা জনপ্রিয়তা আপনার কাজের মূল প্রেরণা যেন না হয়। মানুষকে যথেচ্ছ লাইক বা শেয়ার পেতে দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। এসবের আবেদন ক্ষণস্থায়ী। ইসলামের কাজে গভীর অধ্যবসায় করুন। মানুষের অলক্ষ্যেও যদি থেকে যান তাতে কোনও সমস্যা নেই, ক্ষতি নেই। আপনার সারা জীবনের কষ্টার্জিত জ্ঞান ও কর্ম দিয়ে আল্লাহ্‌ কখন মানুষকে উপকৃত করবেন তার কোনও ঠিক নেই। শস্তা জনপ্রিয়তার লোভে স্ট্যাটাস প্রসব করার চেয়ে সেই কাজ ঢের ভালো হবে। আল্লাহ্‌র সুন্নাহ হচ্ছে যে তিনি দুনিয়াতে অমুসলিমদের কাজেও পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মূল্যায়ণ করেন। সেখানে মুসলিমদের ক্ষেত্রে এর অন্যথা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।"

-- আসিফ সিবগাত ভূঞা

মেয়েটা এগুলো দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিল

ছেলেটার আলুথালু বেশ। উশকো-খুশকো মাথার চুল। বন্য রকমের স্বাধীন। বোহেমিয়ান -- গিটার হাতে আজ কুয়াকাটা তো কাল সিলেট। জীবনটাকে উপভোগ করতে পারে। ....... মেয়েটা এগুলো দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। অনেক সাধনা, বহু আন্দোলন-কোন্দল-সংঘর্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরে বিয়ে করার স্বাধীনতা। অসহ্য লাগে এখন। বুনো জানোয়ার। ছেড়া কাপড় পড়ে বাইরে বের হয়ে যায়। গোসল করে না কতদিন। চুলে তেল-পানি কিচ্ছু নেই। আয় করার নামটি নেই খালি ফূর্তি। সারাদিন আছে বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে। ........ বিয়ের পরে মেয়েটা ভাবছে। কিছুদিন পরে ভাবনাগুলো শব্দতে রূপান্তর হয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে। কোনো এক গুণীজন বলেছিলেন মেয়েরা বিয়ে করে কিছু গুণে আকৃষ্ট হয়ে। বাকি জীবন চলে যায় সেই গুণগুলোকে শুধরে দিতে। আলহামদুলিল্লাহ সেকুলার প্রেম-বিয়ের এই যন্ত্রণা একজন মুসলিমকে সহ্য করতে হয় না। তারা বিয়ে করে দ্বীন দেখে। বাকিটা জীবন তারা দুজনে মিলে চেষ্টা করে কীভাবে একে অপরের দ্বীনকে বাড়িয়ে তুলবে।

--  শরীফ আবু হায়াত অপু

তবু মাথা নোয়াবার নয়

'জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়' -- কথাটার সত্যতা সুকান্ত কতটা বুঝেছিলেন জানি না, আমরা বেশ বুঝতে পারছি। গাজাতে নিহতের সংখ্যা হাজার পেরিয়েছে, আহত ৬০০০। এর মধ্যেও গাজাবাসী ঈদ করছে। আল্লাহর দেওয়া আনন্দের দিন কাফেররা ম্লান করবে কীভাবে?

যারা নিহত হয়েছে তাদের জন্য কী ধরণের খাবার অপেক্ষা করছে সেটা আমরা চিন্তাও করতে পারব না। যারা জীবিত, আহত -- তাদের ধৈর্যর জন্য আল্লাহ উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন ইন শা আল্লাহ।

যুদ্ধজাহাজ দিয়ে গাজার সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ট্যাঙ্ক দিয়ে স্থলসীমা টহল দেওয়া যায়, বিশ্বের পরাশক্তিদের নিয়ে একটি জাতির ভূমি ছিনিয়ে নেওয়া যায় কিন্তু একজন মুমিনের হৃদয়?

নাহ সেটা কিছুতেই দখল করা যায় না। যায়নি, যাচ্ছে না, যাবেও না ইন শা আল্লাহ।

-- শরীফ আবু হায়াত অপু

বিয়ে না হলে তাতে কি ?? সে তো আমার বর (Husband)!!

ভার্সিটিতে প্রায় শেষ সেমিস্টার, সামনের মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা। কিছুদিন ধরে গত চার বছর এর কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে জল্পনা কল্পনা করছিলাম। সমাজের তুমুল পরিবর্তনের কিছু অবাক করা চিত্র ধরা পড়লো। তার মধ্যে খুব গুরুতর একটা সমস্যা নিয়ে লেখার অভিপ্রায় জাগলো।
আমার ক্যাম্পাস যেহেতু শুধু মেয়েদের, তাই গত চার বছর বেশ স্বাচ্ছন্দে কেটেছে। ভার্সিটিতে মেয়েদের নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান, language club, Debate club আয়োজন করতে গিয়ে অনেক অনেক মেয়ের সাথেই সখ্য গড়ে উঠেছে। তাদের মাঝে প্রায় সবাই প্রেমজনিত রোগে ভুগছে, তবে অনেকেই এই বিষ পান করেনি বলে আমার বিশ্বাস।

যাইহোক, প্রেমজনিত রোগে ভুগছেন যারা তাদের কয়েকজনের অদ্ভূত এক জীবনদর্শন আমাকে একই সাথে বিব্রত এবং চিন্তিত করেছে। এসব মেয়েদের মাঝে অনেকের পরিবার থেকেই জানে যে এরা একজন এর সাথে engaged, কিন্তু তবুও বাড়ি থেকে বিয়ের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু এরা ঠিকই কক্সবাজার এ পিকনিক এ যাচ্ছে, অবৈধ মেলামেশা করছে! আবার এসব কিছুও তাদের পরিবার জানছে। আমি খুব কাছের একজনের কাছে জানতে চাইলাম, চার বছর ধরেই তো ভাই একই ভাবে চলছেন, বিয়ে করবেন কবে?? সে উত্তরে বলল, বাবা-মা এখনই রাজি না, অনার্স শেষ করেই বিয়ে দেবেন। আবার প্রশ্ন করলাম, বিয়ে হবে তো? নাকি…? সে বললো আরে বিয়ে তো হয়েই আছে, ও তো আমার বর। শুধু কালেমা পরাটাই বাকি এই আর কি (????)।

আর একজনের সাথে কথায় কথায় বিয়ের প্রসঙ্গ এলো, বলল সে তার খালাতো ভাই এর সাথে প্রেম করছে আজ প্রায় ৩ বছর। ওরা একসাথে বাড়ি যায়, এমনকি ওর পরিবার থেকে কড়া নির্দেশ, ওর সেই খালাতো ভাই ছাড়া যেন একা একা বাড়িতে না যায়। (?????????)

এরকম আরো অনেক মেয়ের কাছ থেকেই একইরকম উত্তর পেলাম, যারা নাকি অনেকদিন ধরেই প্রেমজনিত এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত।

অনেক ভেবে দেখলাম সমাজের এই সমস্যাটাই আমাদের দেশের মূল ভাঙ্গনের জন্য অনেকটাই দায়ী। আগে ছেলে মেয়েদের বিয়ে হত অল্প বয়সেই এবং সংসারের দায়িত্ব ঘারে এসে পড়ায় মানুষের মধ্যে এতো চরম নৈতিক বিপর্যয় ঘটেনি। এখন মেয়েদের তথাকথিত অধিকার প্রতিষ্ঠার নাম করে তাদের নিয়ে ব্যাবসা করা হচ্ছে। আর মা-বাবারাও এসব ফানুসের পেছনে নিজের সন্তানদের ছুটার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। বিয়ের মত বৈধ একটা সামাজিক কাজকে পায়ে দলে অবৈধ যৌন বাসনাকে উস্কে দেয়া হচ্ছে।
লাক্স ফটোজেনিক এ যে মেয়েগুলো অংশ নিচ্ছে, তাদের বাবা মায়ের কাছে খুব জানতে ইচ্ছা করে, তারা কি তাদের সন্তানের শরীর বিক্রি করা টাকা দিয়ে তাদের ভবিষ্যত জীবন কে সাজাতে চান??
যে চ্যানেল আই এই কুকাম সাধন করে যাচ্ছে বছরের পর বছর তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমাজ নীরব কেন??

এবারে একটু গভীরে যাই,

ধরেন একটা মেয়ে আর একটা ছেলে, ২ জনই একি শহরে পড়ালেখা করছে, ২ জনই সেই প্রেমজনিত মহামারি রোগে আক্রান্ত। তারা ২ জনই ২ টা মেসে বা হোস্টেল এ থেকে পড়ালেখা করছে এবং তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, একে অপরকে ছাড়া বাঁচবেইনা (প্রলাপ আর কি)। এখন এই দুজন নাদান মানব মানবী কে যদি তাদের পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দিত, এবং তারা ২ টা ভিন্ন হোস্টেল না থেকে একটা রুমে থাকবে আর পাশাপাশি পড়ালেখা করবে। বাবা মা তারা আলাদা থাকলে যেই টাকা তাদের দিতেন সেই টাকাই পাঠাবেন। এরকম উদাহরণ আমাদের ভার্সিটিতে আমি দেখেছি। আমাদের বিতর্ক ক্লাবের এক মেয়ের কাছে জানতে পারলাম, তাদের পরিবার এ এখনও ছেলেমেয়েদের এভাবেই বিয়ে হচ্ছে। সেই মেয়েও বিবাহিত। তারা ২ জনই আমাদের ভার্সিটিতে পড়ছে। একটা রুম নিয়ে থাকছে। এতে ওদের নৈতিক অবক্ষয়ের একটা পথ বন্ধ হয়েছে। ওদের পরিবারের সবার এভাবেই বিয়ে হয় এবং সবাই উচ্চশিক্ষা নিতে দেশে বিদেশে যাচ্ছে। বিয়ে পড়ালেখায় কোনো প্রতিবন্ধক নয়। এটাকে সমাজ প্রতিবন্ধক হিসেবে উপস্থাপন করে অবৈধ যৌনাতেই বাহবা দিচ্ছে। টেলিভিশন নাটক সিনেমায় এমনভাবে এটাকে দেখানো হচ্ছে যে প্রেমটা যেন ঐশ্বরীক! বিয়ের আর দরকার কি?? তাদের কথা মত, "বিয়ে হয়নি তো কি হয়েছে? সে তো আমার বর"। (!!!!!!!!!!!!!!)

Boyfriend culture এর বেপরোয়া প্রচলন এর ফলে সমাজের কত অঘটন ঘটছে তা নিশ্চয়ই সবাই বুঝেন বোধ করি।

১। অবিশ্বাস (বিয়ের আগে যতটাই বিশ্বাস করছে, বিয়ের পর ঠিক ততটাই অবিশ্বাস)।
২। তালাক।
৩। নারী নির্যাতন।
৪। নৈতিক অবক্ষয়।
৫। অনেক ছেলেমেয়েই একাধিক প্রেম জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
৬। একে অপরের প্রতি সমাজিক শ্রদ্ধাবোধ এখন বিলুপ্তির পথে (ট্রেনে এক বৃদ্ধকে সিট ছেড়ে দেয়ায় সবার চোখে সেই মানুষটাকে এলিয়েন মনে হয়)।
৭। পারিবারিক অশান্তি।
৮। হতাশা।
৯। নেশা (প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে নেশা ধরেছে এমন ঘটনা এখন খুব সাধারণ)।
১০। খুন।
১১। পর্ণোগ্রাফি (প্রায়ই ইন্টারনেট এসব ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যায়, অপ্রকাশিত ঘটনার কথা বাদই দিলাম, কিন্তু অনেক ঘটছে)।
১২। আত্মহত্যা।
১৩। ধর্ষণ।
১৪। লোভ (আমাদের ভার্সিটির এক মেয়ে সেমিস্টার ফি না দিয়ে তার বয় ফ্রেন্ড কে গিফ্‌ট কিনে দিল, সেমিস্টার ফাইনাল দিলনা। যখন বাবা জানলেন তখন সেই বাবার সে কি করুণ অবস্থা!!)।
১৫। পারিবারিক অশান্তি।

এভাবেই আরো অনেক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টিকারী এই মহামারি ব্যাধি আমাদের সমাজকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার অভাবে, তাদের মস্তিস্কে গোবর সাপ্লাই করার মত অনেক উপাদান চাকচিক্যময় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করছে। আর মিডিয়া এই সমস্যাকে সব থেকে বেশি উসকিয়ে দিচ্ছে। পোষাক সন্ত্রাস মেয়েদের রুচি বিকৃতিতে সব থেকে বেশি তৎপর।

বিদেশী সংস্কৃতির আদলে বাঙ্গালি মেয়েদের ইজ্জত আব্রু নিয়ে যা ইচ্ছে তাই ছিনিমিনি খেলা চলছে, আর আমরা তখন নীরব!!! যারা নিজেদের সমাজের কর্ণধার মনে করেন তাদের তখন ১০০০ ভোল্ট এর বাত্তি দিয়ে সার্চ করলেও খুঁজে পাওয়া যায়না!

কিন্তু এরাই আবার স্বাধীনতা, স্বাধীনতার চেতনা, দেশকে নিয়ে দুশ্চিন্তা(!!) এসব বুলি আওরাতে খুব পটু। যে চ্যানেল আই লাক্স ফটোজেনিক এর মত নোংড়ামি করতে পারে, তারাই আবার 'মাটি ও মানুষ' নিয়ে অনুষ্ঠান করে বাহবা কুড়ায়। আর আমাদের মত আতেলরা দেখেও না দেখার ভান করি। কেউ কেউ বলি, কি হচ্ছে হোক, আমি নিজে ভাল থাকলেই হল। দেশ আর সমাজের জন্য আমাদের তো কোন দায়িত্ববোধ থাকতে নেই(!!)। আমরা শুধু খাব দাব আর কলকলাবো। দেশে একটা দৈত্য এলো, ডিজুস জেনারেশন তৈরি হলো, এরা বেহায়া নাচ গানে মত্ত থাকবে, পার্টি করবে, ক্লাবে নাচবে। মেয়েরা পার্লারে কারি কারি টাকা উড়াবে নিজদেরকে নোংড়ামির জন্য পলিশ করবে আর রাস্তায় তার রুপ দেখে কেউ কমেন্ট করলে সেটা হবে যৌন হয়রানি কিংবা ইভটিজিং(!!)।

ধুর ছাই, এসব ভাবলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে...

................
সাদিয়া শিমু
২৮ জানুয়ারী, ২০১১।

গাজা নিয়ে কত লেখালেখি

গাজা নিয়ে কত লেখালেখি, কত অনুভূতি! আমারও লেখার আছে কিছু, কিন্তু লিখতে পারি না। বুকের গহীন গভীর আর গোপন কষ্টগুলি শেয়ার করা অনেক কঠিন। শুধুই কষ্ট হলেও একটা কথা ছিল। কষ্টের সাথে আছে পাহাড়সম অপমান। ইসরাইলীরা যখন পোকামাকড়ের মত ফিলিস্থিনীদের মারে তার ভেতর শুধু বেপরোয়া পশুশক্তির প্রকাশই নেই, আছে প্রবল অপমানও। যখন খুশী, যেভাবে খুশী মারতে পারি, অপদার্থ আরব/মুসলিম, এ ব্যাপারে তোমাদের কি করার আছে? (আজকাল অবশ্য ফেসবুক আর টুইটারে স্ট্যাটাস দেওয়া যায়)। টার্কিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশগুলির সম্মিলিত শক্তি ইসরাইলের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতি একজন ইহুদীর বিপরীতে আছে শতজন মুসলিম। আরবদের হাতে আছে তেল অস্ত্র। যার একটিবারের ব্যবহারে পশ্চিমা বিশ্ব দিশেহারা হতে পারে। ইতিহাস সাক্ষী। অন্যায় রাষ্ট্র ইসরাইলের টিকে থাকবার কথা নয়। কে টিকিয়ে রেখেছে? যতটুকু আমেরিকা, ততটুকুই ইজিপ্ট এবং সৌদি আরব। কষ্ট, অপমানের সাথে সাথে ঘৃণাও নেহাত কম হয় না। অযোগ্য অপদার্থ একটি উম্মাহর অংশ আমি। অপমান হজম করবার চেষ্টা চালাই শুধু।

-- সালেহ হাসান নকীব

প্রথম আলো ও সেক্যুলার মিডিয়াগুলো আপনাকে যে মিথ্যা জানাতে চায়

প্রথম আলো ও সেক্যুলার মিডিয়াগুলো আপনাকে যা জানাতে চায়ঃ

"পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপঃ ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের ৬৯% মানুষ"
http://epaper.prothom-alo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2014-07-03

এবং যা জানাতে চায় নাঃ

৮২% বাংলাদেশী শরিয়া দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে চায়ঃ পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ '১৩ http://www.pewforum.org/2013/04/30/the-worlds-muslims-religion-politics-society-beliefs-about-sharia/

একই প্রতিষ্ঠানের দুইটি জরিপ। একটি স্থান পেয়েছে প্রথম পাতায়, অন্যটি ছাপানোই হয়নি।

সেক্যুলারিজম শব্দের অর্থ ধর্মনিরপেক্ষতা নয় বরং এর সঠিক অর্থ ইহজাগতিকতাবাদ

​​
বিলাল ফিলিপসকে সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে ঢাকা ত্যাগে বাধ্য করানোতে আবারও প্রমাণিত হইল যে সেক্যুলারিজম শব্দের অর্থ ধর্মনিরপেক্ষতা নয় বরং এর সঠিক অর্থ ইহজাগতিকতাবাদ। Secular শব্দের উৎস মূল হচ্ছে ল্যাটিন শব্দ saecularis, যার অর্থ ইহজাগতিকতা। অর্থাৎ ধর্মীয়ভাবে অনুপ্রাণিত আদর্শের লক্ষ্য যেখানে ইহজাগতিক এবং পারলৌকিক উন্নতির দুটোই, সেখানে সেক্যুলার রাষ্ট্রের সকল কর্মকান্ডের লক্ষ্য হচ্ছে কেবল ইহজাগতিক উন্নতি। সেক্যুলারিজমের সাথে ধর্মের এই দ্বন্দ্ব চিরন্তন কারণ সেক্যুলারিজম রাষ্ট্রের আদর্শকে বস্তুকেন্দ্রিক ইহজাগতিকতায় মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। ইউরোপে সেক্যুলারজিমের উত্থান হয়েছে খৃষ্টধর্মের চার্চের সাথে বিদ্রোহ করে। এখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সেক্যুলারপন্থীরা একই রকমের বিদ্রোহ করতে চান। এক্ষেত্রে তারা খৃষ্টধর্ম সম্পর্কে ইউরোপের অভিজ্ঞতার সবটুকু ইসলামের উপরে প্রয়োগ ঘটাতে চান। কিন্তু খৃষ্টধর্ম সম্পর্কে চার্চের বয়ানের সাথে ইসলামের যে আকাশ আর পাতালের তফাৎ আছে সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করার শক্তি তাদের নেই। সেক্যুলারিজম তথা ইহজাগতিকতাবাদকে তারা এখন নিজেদের জন্য ধর্ম বানিয়ে নিয়েছেন। শাহবাগের ছয়দফা দাবীর মধ্যে অন্যতম দাবী ছিল ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। এমনকি ইমরান এইচ সরকারের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে বিদ্রোহ করে 'রুমি স্কোয়াড' নামের যে গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছিল সেখানেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী বলবৎ ছিল। বাংলাদেশের জন্য এটা ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের শামিল। অর্থাৎ শাহবাগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে ইসলামী রাজনীতি মুছে দেওয়া। তাদের বয়ান অনুযায়ী এদেশে কেবল বস্তুকেন্দ্রিক আদর্শ যেমন পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্রই কেবল থাকবে, বাকি সব নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির যে বিপুল জনসমর্থন আছে তা শাহবাগের ফ্যাসিবাদী বয়ানে সামান্যই গুরুত্ব পায়। এটা একধরণের সেক্যুলার মৌলবাদিতা যেখানে সেক্যুলার গোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দমন নিপীড়নের মাধ্যমে ভিন্ন আদর্শকে নির্মূল করে ইহজাগতিক ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা থেকে মোটা দাগে বলা যায়, ইসলামী আদর্শ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিতেই দেখে। তাই সাম্প্রদায়িকতা বনাম অসাম্প্রদায়িকতার বিতর্ক এখানে প্রযোজ্য নয়। দুঃখজনকভাবে, শাহবাগীরা ইসলামী আদর্শ সম্পর্কে ভুল ধারণায় আছে যে কারণে তারা একে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করে। অথচ ইসলামের সাথে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন দ্বন্দ্ব নেই, তার দ্বন্দ্ব সেক্যুলারিজম নামের ধর্মের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের আদর্শকে কেবল ইহজাগতিকতায় সংকুচিত করে ফেলার প্রচেষ্টার সাথে। বিলাল ফিলিপস মুসলিম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইসলামী স্কলার। বাংলাদেশের সেমিনারে তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল 'সম্পদ পরিশুদ্ধকরণ এবং মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ঐক্য'। খাতা কলমে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করলেও নিছক ধর্ম বিষয়ক এই আলোচনাকেও সেক্যুলার মৌলবাদীদের ইহজাগতিক আদর্শের জন্য থ্রেট মনে হয়েছে। শাহবাগের তথাকথিত জাগরণের কথাই বলুন আর বিলাল ফিলিপসকে সেমিনার করতে বাঁধা দেওয়ার ঘটনাই বলুন, সবই একই সম্পর্কসূত্রে বাঁধা। এবং সেটি হচ্ছে, সেক্যুলারিজম (ইহজাগতিকতাবাদ) এর সাথে ইসলামের চিরন্তন দ্বন্দ্ব।

~ Ahmad Musaffa

​​বিয়ের আলাপ চলার সময় করনীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ:

​​বিয়ের আলাপ চলার সময় করনীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ:

১. আপনার নিয়তকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন করুন

২. অপর পক্ষের সাথে যোগাযোগের সময় ইসলামি দিক নির্দেশনাগুলো ভঙ্গ করবেন না

৩. নিজেকে সততার সাথে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করুন

৪. মিথ্যার আশ্রয় নেয়া কিংবা ডিমান্ড বাড়াবার জন্য বাড়িয়ে বলা থেকে বিরত থাকুন

৫. প্রশ্ন করুন, কিন্তু এমন ভাবে প্রশ্ন করবেন না যাতে মনে হয় আপনি চাকরি কিংবা ব্যবসায়িক ইন্টার্ভিউ নিচ্ছেন

৬. রিউমারে (উড়ো কথায়) বিশ্বাস করবেন না। বরং ভালো করে খোঁজ খবর নিন।

৭. অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে মনোভাব পরিহার করুন

৮. হ্যাঁ বা না বলার আগে সময় নিয়ে ভাবুন

৯. পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের পরামর্শ নিন

১০. ইস্তিখারার নামাজ পড়ুন

১১. অনেক অনেক দোয়া করুন

১২. সব শেষে যে কথাটি সব সময় মনে রাখবেন সেটা হল: আপনি ও আপনার সম্ভাব্য জীবন সঙ্গী কেউই পারফেক্ট নয় বরং আমরা সবাইই পারফেক্ট হওয়ার পথে সচেষ্ট। সুতরাং আপনার ক্রাইটেরিয়া বা শর্তগুলো বার বার রিভাইজ দিন। সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবুন।

J A Tariq

যারা রাগের মাথায় হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেয়

যারা রাগের মাথায় হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে স্ত্রীকে ত্বালাক দেয় তাদের বাহাদুরি চাকরির ক্ষেত্রে কই যায়? রাগের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেয় না কেন? রাগের মাথায় থাকার বাসা বিক্রি করে দেয় না কেন? ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দান করে দেয় না কেন? এইসব দুষ্ট চরিত্রের লোকদের সামাজিকভাবে শায়েস্তা করা উচিৎ। ~উস্তাজ শাহ ওয়ালীউল্লাহ

একজন গার্লফ্রেন্ড আর একজন রক্ষিতার মধ্যে তফাত কী?

একজন গার্লফ্রেন্ড আর একজন রক্ষিতার মধ্যে তফাত কী?

- প্রথমজন ফ্রি সার্ভিস দেয় (আসলে ফ্রিও বলা চলে না, গার্লফ্রেন্ডের পেছনে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়), দ্বিতীয়জন ফি নেয়।

- খুব একটা তফাত নাই, চাহিদা মিটে গেলে (গার্লফ্রেন্ডের বেলায় ব্রেক আপ হলে) দুজনই হাতবদল হয়।

তেতো কথা?

হ্যাঁ। রেগে না গিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন। আদতেই তেমন কোন তফাত নেই।
আর আপুরা একটু বেশিই বোকা কিনা। লিটমাস টেস্ট করে দেখতে পারেন। আপনার "বয়ফ্রেন্ড" কে বলে দেখুন, আমি বিয়ে করতে চাই, প্লিজ আমার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাও।

উত্তরে সে হয়তো বলবে-
"এত তাড়াতাড়ি? আমি প্রিপ্যারড না।"

আপনার সাথে প্রেম করতে তার কোন প্রিপ্যারেশন দরকার হয় নি, ক্ষেত্র বিশেষে বিছানায় যেতেও কোন প্রিপারেশনের দরকার হয় নি। এগুলোতে যে দায়িত্ব নিতে হয় না। ফ্রি ফ্রি মজা নেওয়া যায়। এতগুলো হারাম কাজে কোনই প্রিপ্যারেশন লাগে নি, শুধু হালালভাবে বিয়ে করতেই যত প্রিপ্যারেশন দরকার হয়।

আপু, দয়া করে নিজেকে এত সস্তা করে দেবেন না। প্লিজ।

[Collected from a Sister]

নারী তোমার অবসরটা কারো কাছে বেঁচে দিও না

​একজন নারী ঘরের কাজ করবে, আবার বাইরের কাজও করবে? 
তার কাজের জগতটাইতো বেড়ে গেল ! 
এর নাম কি… "নারী স্বাধীনতা"?

প্রসঙ্গ : তোমার অবসরটা কারো কাছে বেঁচে দিও না।

"আমি একবার চাকরি নেব কিনা ওর মতামত চাইলে ও বললো- তোমার ইচ্ছে। আমি জোর খাটিয়ে কিছু বলবো না। তবে তুমি এখন তোমার অবসরটা কিছু সৃষ্টিশীল কাজে লাগাতে পারছো। তাই বলবো তোমার অবসরটা কারো কাছে বেঁচে দিও না।

আমার ওর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলাম। আমি মাঝে-মাঝে কিছু হাতের তৈরী শোপিস বানাই। আমার স্বামী সব সময় আমার এই কাজের সহযোগী। একদিন তো একটি গাছের চ্যাপ্টা গুঁড়ির উপর আর একটি মরা গাছের কান্ড লাগিয়ে একটি পাহাড়ী গ্রাম বানাচ্ছি। সব কিছু ঠিকমত হল। কিন্তু আলাদা কান্ডটা কিছুতেই লাগাতে পারছিনা। আমি অভিমান করে বললাম- ঘরে কি কেউ নেই আমাকে একটু সাহায্য করবে? সঙ্গে-সঙ্গে ও এসে লেগে গেল। দু'জন মিলে এই কাজ শেষ করে ঘুমুতে গেলাম, তখন প্রায় রাতের ১টা বেজে গেছে ।"

লিখেছেনঃ নূর আয়েশা সিদ্দিকা